হাসনাত এখন শেখ হাসিনার মতো গলাবাজি করছেন: রাশেদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৭ বার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজনীতিতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হাসনাত আব্দুল্লাহকে নিয়ে বিএনপি নেতা রাশেদ খানের মন্তব্য। তিনি অভিযোগ করেছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ এখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

শনিবার (২৭ জুন) একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রাশেদ খান এসব মন্তব্য করেন।

রাশেদ খান বলেন, “হাসনাত আব্দুল্লাহ এখন শেখ হাসিনার মত গলাবাজি করছেন।” তিনি দাবি করেন, নিজের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই—এমন বক্তব্য দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ যে অবস্থান নিয়েছেন, সেটি নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ যদি দাবি করেন যে তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি, তাহলে তার কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও জনসমক্ষে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

রাশেদ খান অভিযোগ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর এলাকায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বাজেট নেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্য এলাকার মানুষকে বঞ্চিত করে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য বড় আকারের প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সেটিকে কীভাবে দেখা হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ থেকেও কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের আচরণেও সমতা ও ন্যায্যতার বিষয়টি থাকা প্রয়োজন।

রাশেদ খান বলেন, “নিজের উপজেলায় এমপি হওয়ার জন্য এরকম শত শত কোটি টাকার বাজেট নেওয়া হয়েছে। এটাই দুর্নীতি।” তবে তার এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নেতার বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক শক্তি, পুরোনো দলগুলোর ভূমিকা এবং বিভিন্ন নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা চলছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসা একজন রাজনৈতিক কর্মী। তার বিভিন্ন বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে রাশেদ খান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রাশেদ খানের বক্তব্যে মূলত দুটি বিষয় উঠে এসেছে—একদিকে ব্যক্তিগত দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করার প্রসঙ্গ, অন্যদিকে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের অভিযোগ। তিনি মনে করেন, শুধু ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতি না করার দাবি যথেষ্ট নয়; বরং রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনকালে সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতাও গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ এবং জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সবসময়ই আলোচনার বিষয়। কোনো নেতা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার যথাযথ ব্যাখ্যা এবং প্রমাণভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজন হয়।

তারা বলেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি নীতিগত বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ এখন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য ও সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব রয়েছে। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

রাশেদ খানের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক শক্তি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতামত তৈরি হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, রাশেদ খানের এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে চলমান বিতর্ক কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত