সর্বশেষ :

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার শ্বশুরবাড়িতে সারজিস-নাসীরুদ্দীন

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩০ বার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর শ্বশুরবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের (স্থানীয়ভাবে মাসুক নামে পরিচিত) বাসায় যান এনসিপির দুই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ আহমদ রাজনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাম্মুর শ্বশুর। এ কারণেই এনসিপির নেতাদের ওই বাড়িতে যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠলেও এখন পর্যন্ত সারজিস আলম বা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষ থেকে এ সফর নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এনসিপির পক্ষ থেকেও কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জিল্লুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত সম্পর্ক নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

তবে এনসিপির স্থানীয় নেতারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। মৌলভীবাজার জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি আমন্ত্রণে যাওয়া। তিনি দাবি করেন, মাসুক কমিশনার আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য বা কর্মী নন।

এহসান জাকারিয়া আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় মাসুক কমিশনার তাদের সহযোগিতা করেছিলেন। তিনি খাবার ও পানি দিয়ে সহায়তা করেছেন বলেও দাবি করেন এনসিপির এই নেতা।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি এ বিষয়ে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দলের নেতাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সামাজিক সম্পর্কও অনেক সময় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের অতীত সম্পর্ক থাকলে তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

তবে একটি ব্যক্তিগত সফর বা সামাজিক যোগাযোগের ঘটনা থেকে রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির স্থানীয় নেতারা তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সফরটি ছিল ব্যক্তিগত আমন্ত্রণের অংশ এবং এর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা বিশেষ উদ্দেশ্যের সম্পর্ক নেই।

রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে। আগামী দিনে সংশ্লিষ্টদের আরও কোনো বক্তব্য আসে কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com