পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হতে পারে: রনি

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ভবিষ্যতে দেশে যে কোনো বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থান হলে সেটি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রিত হতে পারে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান আগের তুলনায় আকার ও প্রভাবের দিক থেকে বড় হয়েছে।

সম্প্রতি একটি টক শোতে অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক গতিপথ, দলগুলোর অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলনের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন গোলাম মাওলা রনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতিটি আন্দোলন আগেরটির তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে। তার মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন একটি বড় রাজনৈতিক আন্দোলন তৈরি হতে পারে, যার মূল লক্ষ্য হবে জামায়াতে ইসলামী।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কখনো স্থির থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা, ক্ষোভ, রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান এবং সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটে। এসব বিষয় একসঙ্গে কাজ করে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ায় দেশের রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতার মধ্যে নতুন করে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে তিনটি বড় শক্তি সক্রিয় রয়েছে—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে সাংগঠনিকভাবে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৯ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখতে পেরেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ১/১১ পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলটি সংগঠন বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, রাজনৈতিক শক্তির উত্থান-পতন শুধু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; বরং জনগণের মনোভাব, সামাজিক পরিবর্তন এবং সময়ের বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ বা রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আনে। এসব ন্যারেটিভ জনগণের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, সেটিও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নিজের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, এটি তার পর্যবেক্ষণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া একটি বিশ্লেষণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানগুলো সাধারণত দীর্ঘ সময়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষের ফল হিসেবে দেখা যায়। কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে।

তারা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সময়ের দাবি অনুযায়ী অবস্থান—সবকিছু মিলিয়েই ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারা নির্ধারিত হবে।

গোলাম মাওলা রনির এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান, জনগণের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নানা মত তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে গণআন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে জনগণের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত