তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের ঘোষণা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৭ বার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নামে হোক কিংবা অন্য কোনো নামে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় পানি সম্পদ মন্ত্রী এ কথা জানান। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজের মতো তিস্তা মহাপরিকল্পনার সমীক্ষা সম্পন্ন করে চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীর তীরবর্তী মানুষের জীবন দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙন, বন্যা, পানির স্বল্পতা ও অতিরিক্ত প্রবাহের কারণে এসব এলাকার মানুষ নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু তিস্তা নয়, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করছে। তাদের অনেকেই সরকারি বাজেটের হিসাব বা বড় উন্নয়ন পরিকল্পনার ভাষা বুঝতে পারে না, তবে তারা বাঁচতে চায়, নিরাপদ জীবন চায়।

পানি সম্পদ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে নদীভাঙনকবলিত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। দেশের নদীগুলো একদিকে যেমন অর্থনীতি ও কৃষির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে নদী ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

তিস্তা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। এই নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি উন্নয়নের সঙ্গে কয়েকটি জেলার লাখো মানুষের জীবন সরাসরি যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় জনগণ ও বিশেষজ্ঞরা।

সংসদে পানি সম্পদ মন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনায় নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং তিস্তা প্রকল্পের সমীক্ষায় কারিগরি সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তিস্তা প্রকল্পের সমীক্ষায় কারিগরি সহায়তা দিতে চীন সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক নদী ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে চীন ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় পরিকল্পনার সমন্বয়ে নদীগুলোকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি জানান, তিস্তা প্রকল্পের সমীক্ষার জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সমীক্ষার ফলাফল ও কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি, যোগাযোগ এবং মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই এ ধরনের বড় প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তার মতো বড় নদী নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ। নদীর গতিপথ, পানির প্রবাহ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন—সবকিছুর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো পরিবার, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষ এবং পানির অনিশ্চয়তায় থাকা কৃষকদের জন্য এই প্রকল্প নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তিস্তা নদী কখনো আশীর্বাদ, আবার কখনো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—দুই ধরনের সমস্যাই মোকাবিলা করতে হয় নদীর তীরবর্তী মানুষকে।

পানি সম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবারও আলোচনায় এসেছে, তিস্তা নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে যাবে। এখন বিশেষজ্ঞদের সমীক্ষা, পরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন কমানো, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানিসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত