জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে: আজহার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৩ বার

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদে দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, যদি জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান কে পূরণ করবে।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই নেতা এ প্রশ্ন তোলেন।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে এ টি এম আজহারুল ইসলাম সরকারি দলের সমালোচনা করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের আগে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?”

তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বহুদলীয় অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, একটি দলকে সরিয়ে দিলে তার জায়গা অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি নেবে—তবে সেই পরিবর্তন কীভাবে হবে, তা নিয়েও ভাবা প্রয়োজন।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, দেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলকে নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন।”

বিএনপিকে নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব পক্ষের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে হলে শুধু ব্যক্তি নয়, সংশ্লিষ্ট সব ধরনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সংসদে বক্তব্যের শুরুতে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক নেতাদের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর নাম উল্লেখ করেন।

তাদের বিচার প্রক্রিয়াকে তিনি ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং ঋণনির্ভর হওয়ায় বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি মোকাবিলা করতে হবে।

তার মতে, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর নির্ভরতা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ বাজেট বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারে।

পরিচালন ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে আজহারুল ইসলাম সুদভিত্তিক আর্থিক কাঠামোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মুসলিম-প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সুদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন।

তিনি ইসলামি অর্থব্যবস্থার আওতায় ‘রিটেইল সুকুক’ বা ইসলামি বন্ড চালুর প্রস্তাব দেন। তার মতে, ধীরে ধীরে সুদমুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে দল নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে চলমান বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো দলের ভবিষ্যৎ, অংশগ্রহণ কিংবা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আলোচনা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ রাজনৈতিক দলগুলো শুধু নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোরও একটি অংশ।

এ টি এম আজহারুল ইসলামের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তা নির্ভর করবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং জনগণের অংশগ্রহণের ওপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত