গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে ছাপিয়ে এমবাপ্পের দাপট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ বার
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে ছাপিয়ে এমবাপ্পের দাপট

প্রকাশ: ১ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে তাদের দ্বৈরথ বিশ্ব দেখেছিল এক রুদ্ধশ্বাস নাটক হিসেবে। সেই একই আমেজ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চেও নতুন করে প্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ শেষে সমর্থকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধুই এই দুজনের গোল করার সক্ষমতা। সম্প্রতি সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে। এখন দুজনেই চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সমান ৬টি করে গোল নিয়ে অবস্থান করছেন। তবে গোল সংখ্যায় সমানে সমান হলেও গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে ফরাসি এই ফরোয়ার্ড কেন এগিয়ে রয়েছেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

ফিফার সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মারপ্যাঁচেই মূলত এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র গোল সংখ্যাই শেষ কথা নয়। যদি টুর্নামেন্ট শেষে একাধিক খেলোয়াড়ের গোল সংখ্যা সমান হয়, তবে ফিফার নিয়মানুযায়ী দেখা হয় অ্যাসিস্ট বা গোল করার সুযোগ তৈরির পরিসংখ্যান। অর্থাৎ, গোল সংখ্যা সমান হলে যার অ্যাসিস্ট বেশি থাকবে, তিনিই হবেন গোল্ডেন বুটের প্রকৃত দাবিদার। এই গাণিতিক হিসাবেই আপাতত মেসিকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে ৬টি গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন বা অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ৬টি গোল করলেও এখনো কোনো অ্যাসিস্টের খাতায় নিজের নাম লেখাতে পারেননি। এই পরিসংখ্যানই তাকে আপাতত গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছে।

যদি গোল এবং অ্যাসিস্ট উভয় সংখ্যাই সমান হয়ে যায়, তবে ফিফার পরবর্তী নিয়মটি কার্যকর হয়। সেই ক্ষেত্রে দেখা হয় কে কত কম মিনিট মাঠে ছিলেন। অর্থাৎ, যে খেলোয়াড় তুলনামূলক কম সময় মাঠে থেকে সমান গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনিই এই মর্যাদাপূর্ণ সোনার জুতার মালিক হবেন। তবে মেসি এবং এমবাপ্পের মধ্যে এই লড়াই শুধু সংখ্যাতত্ত্বের নয়, এটি যেন দুই প্রজন্মের ফুটবল দর্শনের এক অনন্য সংঘাত। একদিকে মেসির নিখুঁত ড্রিবলিং, ক্ষুরধার দৃষ্টি এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, অন্যদিকে এমবাপ্পের বিদ্যুতগতি, অদম্য শক্তি এবং গোলমুখে অবিশ্বাস্য শীতল মস্তিষ্কের খেলা। মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার এই অনন্য পালকটি নিজের নামের পাশে যুক্ত করতে চান। অন্যদিকে এমবাপ্পে লক্ষ্যস্থির করেছেন ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লেখানোর।

যদি শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে থাকতে পারেন, তবে তিনি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি টানা দুই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের গৌরব অর্জন করবেন। এটি নিশ্চিতভাবেই তাকে সর্বকালের সেরা গোলমেশিন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে। যদিও এই তালিকায় হ্যারি কেন বা হামেস রদ্রিগেসের মতো তারকারা রয়েছেন, কিন্তু বর্তমান ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স বিবেচনা করলে মেসি ও এমবাপ্পের বাইরে অন্য কারো এই দৌড়ে টিকে থাকা এখন প্রায় অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এমবাপ্পের এই এগিয়ে থাকার পেছনে তার দলের সম্মিলিত আক্রমণভাগের ভূমিকাও কম নয়। ফ্রান্সের খেলার ধরন এবং সতীর্থদের সাথে তার বোঝাপড়া তাকে গোল করার এবং করানোর বাড়তি সুযোগ এনে দিচ্ছে।

অন্যদিকে লিওনেল মেসির জন্য এই গোল্ডেন বুট জেতাটা হতে পারে তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের এক সার্থক পরিণতি। মেসি তার ফুটবল জীবনের প্রায় সব পুরস্কারই জিতেছেন, দুবার গোল্ডেন বলও নিজের করে নিয়েছেন, কিন্তু বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি তার ক্যাবিনেটে এখনো অধরা। তাই এই আসরটি তার জন্য কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি একটি আবেগের জায়গা। তবে আগামী ৪ জুলাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে যখন আর্জেন্টিনা মাঠে নামবে, তখন মেসির সামনে সুযোগ থাকবে পুনরায় গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে বা অ্যাসিস্ট করে এমবাপ্পেকে টপকে যাওয়ার। প্রতিটি ম্যাচই এখন তাদের জন্য এক একটি ফাইনাল।

ফুটবলবোদ্ধারা মনে করেন, গোল্ডেন বুটের এই লড়াই ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলছে দলের ওপর। কারণ, মেসি বা এমবাপ্পে গোল করার অর্থই হলো দলের জয়ের সম্ভাবনা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া। তবে মাঠের বাইরে এই তীব্র প্রতিযোগিতায় কে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসবেন, তা এখন সময়েরই দাবি। পরিসংখ্যানের জটিল অঙ্কে এমবাপ্পে হয়তো এখন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন, কিন্তু মাঠের খেলায় মেসি কখন জাদুকরী কিছু করে বসেন, তা আগেভাগে বলা অসম্ভব। ফুটবলপ্রেমীরা এখন কেবল অপেক্ষায় আছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন নির্ধারিত হবে কে পরবেন ২০২৬ বিশ্বকাপের সোনার জুতা। এটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের জয় নয়, বরং এটি ফুটবলের এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকার মতো উত্তেজনাপূর্ণ এক লড়াই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com