চকরিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল অটোরিকশাযাত্রীর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
চকরিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল অটোরিকশাযাত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে আবারও প্রাণ ঝরল সড়ক দুর্ঘটনায়। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় কাভার্ড ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও একজনকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার হারবাং স্টেশনের উত্তর পাশে সাঈফা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমাম হোসেন (৩৮)। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার চিরিংগা এলাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান মহাসড়ক দিয়ে চলছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আসছিল। হারবাং এলাকায় পৌঁছানোর পর দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমাম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই আহত যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে অটোরিকশার সামনের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়। নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতেই পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যান এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ভারী যানবাহনের চাপ এবং ট্রাফিক নিয়ম অমান্য করার কারণে এই মহাসড়ককে দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারা বলেন, ব্যস্ত এই সড়কে আরও কার্যকর নজরদারি, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং নিয়মিত পুলিশি নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং সড়কের নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নও জরুরি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় সড়কটি সবসময়ই ব্যস্ত থাকে। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইমাম হোসেনের মৃত্যু তার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে প্রাথমিক তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার বিষয়েও প্রয়োজনীয় খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, প্রতিটি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত