মাদক প্রতিরোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার
মাদক প্রতিরোধে খেলাধুলার বিকল্প নেই: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের তরুণ সমাজকে মাদক, সহিংসতা ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রসারে গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি সুস্থ, মানবিক ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার শুধু ব্যক্তি নয়, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। তাই মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা ও ক্রীড়া চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।

রোববার রাজধানীর শহীদ ফারহান ফাইয়াজ প্লে গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‘ভ্যালেরিয়ন ওয়ার্ল্ড কাপ নাইট ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই ক্রীড়া আয়োজনকে তিনি তরুণদের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি অংশ নানা ধরনের সামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর অন্যতম কারণ মাদকের সহজলভ্যতা এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব। তিনি বলেন, তরুণদের সুস্থভাবে গড়ে তুলতে হলে তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি আরও বেশি আগ্রহী করে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং জাতীয় উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে। তিনি উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে বলেন, মাদককে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে হবে এবং বন্ধু, পরিবার ও সমাজকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, পুরো প্রতিযোগিতায় তারা দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং উপভোগ্য খেলা উপহার দিয়েছেন। একটি দল চ্যাম্পিয়ন হলেও প্রকৃত বিজয়ী হচ্ছে খেলাধুলার চেতনা, যা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলে। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণে ফুটবল প্রদর্শনী ম্যাচ। তাদের খেলা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা কখনো মানুষের সম্ভাবনাকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সুযোগ ও উৎসাহ পেলে তারাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভা বিকাশে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এই শিশুদের উৎসাহিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দুই দলকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার এই ঘোষণায় উপস্থিত দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি সুস্থ সমাজ গঠনের কার্যকর উপায়। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শহর ও গ্রাম—উভয় পর্যায়েই খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

ক্রীড়া সংগঠকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করারও একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, পরিবারভিত্তিক মূল্যবোধ গঠন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়, আয়োজক এবং দর্শকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত অনেকে আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠবে এবং সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত