প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে বিএনপির নেতা মো. রাশেদ খাঁনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় কার্যক্রমে এ নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং দলীয় সমন্বয়ে রাজনৈতিক সহকারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রাশেদ খাঁনের নতুন দায়িত্ব সরকারের রাজনৈতিক কর্মকৌশল বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।
রবিবার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অথবা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—সেই সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্ত পৃথক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মো. রাশেদ খাঁন নিজেও সোমবার (২০ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সরকারি প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রকাশ করে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি পোস্টে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন। এ দায়িত্ব পালনে তিনি যেন জনগণের প্রত্যাশা ও প্রধানমন্ত্রীর আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন দায়িত্ব পালনে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী পদটি সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দল, জোট, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, দলীয় কর্মসূচির সমন্বয় এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মতামত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ পদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের সামনে নানা ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়, সংসদীয় কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও যোগাযোগের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক সহকারীর সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন হয়। ফলে নতুন নিয়োগকে সরকারের রাজনৈতিক টিমকে আরও শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রাশেদ খাঁনের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হবেন। একই সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত রাজনৈতিক সহকারী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজনৈতিক বাস্তবতা মূল্যায়ন, বিভিন্ন মহলের মতামত সংগ্রহ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাও এ দায়িত্বের অংশ।
এদিকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই নিয়োগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর রাশেদ খাঁনের কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রমই তার ভূমিকার প্রকৃত মূল্যায়নের ভিত্তি হবে। সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তিনি কতটা সফল হন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন অধ্যায়ে যাত্রা শুরু করলেন মো. রাশেদ খাঁন। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক কর্মকৌশল আরও কার্যকর ও সমন্বিত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষক এবং দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।