ইসিতে বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসাব, উদ্বৃত্ত ৬ কোটি টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪ বার
ইসিতে বিএনপির আয়-ব্যয়ের হিসাব, উদ্বৃত্ত ৬ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের সর্বশেষ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে জমা দেওয়া এ প্রতিবেদনে দলটির আয়, ব্যয় এবং উদ্বৃত্ত অর্থের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ায় বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরের পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে দলটির সর্বশেষ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে দলটির মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একই সময়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যয় এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে অর্থবছর শেষে দলটির তহবিলে উদ্বৃত্ত হিসেবে জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে সাধারণত আয়ের উৎস হিসেবে সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুদান, দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি এবং অন্যান্য বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে ব্যয়ের খাতে থাকে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়ের পরিচালন ব্যয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচার-প্রকাশনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের খরচ।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া একটি বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়া। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তা সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইতে পারে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হয়। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বহাল রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ আইনি শর্ত।

আইন অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি পরপর তিন বছর নির্বাচন কমিশনে নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে কমিশনের কাছে সেই দলের নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দলীয় অর্থ কোথা থেকে আসছে, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় কতটা জবাবদিহিতা রয়েছে—এসব বিষয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই নির্বাচন কমিশনে নিয়মিত নিরীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাও শক্তিশালী হয়।

এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়াকে দলটির নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও অন্যান্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত হিসাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের নজরদারি আরও কার্যকর হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত