ভাঙ্গায় কাভার্ড ভ্যানে ১০০ কেজি গাঁজা, পালাল দুই কারবারি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৪ বার
ভাঙ্গায় কাভার্ড ভ্যানে ১০০ কেজি গাঁজা, পালাল দুই কারবারি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পরিচালিত একটি অভিযানে প্রায় ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে অভিযানের সময় র‌্যাব সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দুই সন্দেহভাজন মাদক কারবারি। অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় নেটওয়ার্কের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এর আগের দিন রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম বাজার এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের নিচে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় একটি সন্দেহজনক কাভার্ড ভ্যানকে লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলে গাড়ির আশপাশে অবস্থানরত দুই ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যায়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সন্দেহভাজনদের পালিয়ে যাওয়ার পর কাভার্ড ভ্যানটি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদকগুলো এমনভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যাতে সাধারণভাবে বাহনটি পরীক্ষা করলে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব না হয়। উদ্ধার অভিযান শেষে কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয় এবং মাদকসহ আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গাঁজার পরিমাণ এবং পরিবহনের কৌশল বিবেচনায় এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ভাঙ্গা, ফরিদপুরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম বিস্তৃত থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীরা মনে করছেন।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক তপন সরকার বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পেশাদার মাদক কারবারি বলে মনে হচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা ও অন্যান্য মাদক সংগ্রহ করে বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিল। অভিযানের পর তাদের পরিচয় শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া মাদক এবং জব্দ করা কাভার্ড ভ্যান সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ চক্রের অন্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করিডোর হওয়ায় এই সড়ক ব্যবহার করে বৈধ পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অবৈধ মাদক পরিবহনের চেষ্টার ঘটনাও সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মাদক চক্রগুলো দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মাদক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এজন্য এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, শুধু চালান জব্দ করাই যথেষ্ট নয়; এর পেছনে থাকা অর্থায়নকারী, পরিবহন সমন্বয়কারী এবং সরবরাহ নেটওয়ার্ককে শনাক্ত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিটি বড় চালানের পেছনে একাধিক ব্যক্তি ও সংগঠিত চক্র জড়িত থাকে। এসব চক্র ভেঙে দেওয়া না গেলে মাদক পাচার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো প্রায়ই পণ্যবাহী যানবাহন ব্যবহার করে। বৈধ পণ্যের আড়ালে অথবা বিশেষভাবে তৈরি গোপন প্রকোষ্ঠে মাদক লুকিয়ে পরিবহনের প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর তল্লাশি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ভাঙ্গা এখন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল। প্রতিদিন অসংখ্য পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং অন্যান্য যানবাহন এ পথ দিয়ে চলাচল করে। এ কারণে বৈধ পরিবহনের পাশাপাশি অপরাধী চক্রও এই রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাদক পরিবহনের বেশ কয়েকটি বড় চালান আটক হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে শুধু অভিযান নয়, গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং আন্তঃজেলা সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া দুই সন্দেহভাজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয় তথ্য এবং প্রযুক্তিগত উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে এই চালানের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সংস্থা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই চালিয়ে যেতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও জরুরি। সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিলে বড় ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সহজ হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, ভাঙ্গায় উদ্ধার হওয়া ১০০ কেজি গাঁজার চালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে মাদকবিরোধী নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো কোনোভাবেই নিরাপদে মাদক পরিবহন করতে না পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত