আর্জেন্টিনার হারে স্বপ্নভঙ্গ: পরীমনির বিয়ে আপাতত স্থগিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৯ বার
আর্জেন্টিনার হারে স্বপ্নভঙ্গ: পরীমনির বিয়ে আপাতত স্থগিত

প্রকাশ:  ২০ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা যে কেবল মাঠের খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা পৌঁছে গিয়েছিল শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের হিসাব-নিকাশেও, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ রেখেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফুটবলের প্রতি এক গভীর আবেগ এবং আর্জেন্টিনার প্রতি নিজের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে গিয়ে তিনি এমন এক ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে তিনি ফের বিয়ে করবেন—এমন একটি মজাদার কিন্তু চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পর থেকেই ভক্তকূলের দৃষ্টি ছিল পরীমনির দিকে। কিন্তু খেলার শেষ বাঁশিতে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের পরাজয় কেবল ট্রফি জয়ের স্বপ্নই চূর্ণ করেনি, সেই সাথে স্থগিত করে দিয়েছে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর বিয়ের পরিকল্পনাও।

ম্যাচ শেষে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় পরীমনি পরম মমতায় লিখেছেন, বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে। তার এই পোস্টের নিচে মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার রিঅ্যাকশন জমা হয়। আর্জেন্টিনার হারের পরপরই তার এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য একদিকে যেমন ভক্তদের মাঝে হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে, অন্যদিকে তার আর্জেন্টিনার প্রতি তীব্র আবেগের বিষয়টিও পরিষ্কার হয়েছে। বিশ্বকাপের পুরোটা সময়জুড়ে পরীমনি ছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আর্জেন্টিনার একনিষ্ঠ সমর্থক। দলের প্রতিটি জয়ে তিনি কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও তৈরি করেছেন, কখনো বা লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তার এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, সিনেমার পর্দার বাইরেও তিনি একজন সাধারণ ফুটবল প্রেমীর মতোই আবেগপ্রবণ।

পরীমনি যে এমন একটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেকে এক বিব্রতকর কিন্তু কৌতূহলী পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছিলেন, তা তিনি নিজেও ভাবেননি। সেমিফাইনালের আগে যখন তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে তিনি আবার বিয়ে করবেন, তখন হয়তো ভেবেছিলেন এটি কেবল ভক্তদের বিনোদনের একটি মাধ্যম হবে। কিন্তু ইন্টারনেটের যুগে যে কোনো বার্তা কতটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ তাকে কতটা গুরুত্বের সাথে নেয়, তা তিনি বুঝতে পারেন ফাইনালের আগে। হাসিখুশি কণ্ঠে তিনি পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন, এর আগে তিনি কখনো ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করেননি, বরং সবসময় হুট করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তিনি অনেকটা মুসিবতেই পড়ে গিয়েছিলেন। চারিদিক থেকে আসা শত শত বিয়ের প্রস্তাব তাকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল, যার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।

তার এই বিয়ের ঘোষণার নেপথ্যে থাকা সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে পরীমনি আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কেবল ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার নয়, এর সঙ্গে অভিভাবকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িত থাকে। অতীতে তার অভিভাবক ছিল, কিন্তু এখন সেই পর্যায়ের কাউকে না পাওয়ায় বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য বেশ কঠিন। তিনি কৌতুকের ছলেই বলেন, বরং ছেলে বড় হোক, সে বড় হয়ে অভিভাবক হিসেবে তাকে বিয়ে দেবে, সেটিই হয়তো বেশি শোভনীয় হবে। মূলত, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি বিয়ে নিয়ে খুব একটা তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই, বরং সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং নিজের মানসিক শান্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়কে উপলক্ষ করে বিয়ে করার ঘোষণাটি মূলত তার আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসার এক বহিঃপ্রকাশ ছিল মাত্র।

আর্জেন্টিনার পরাজয়ে পরীমনির মন খারাপ হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক। ফুটবলের সঙ্গে ভালোবাসা ও আবেগের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তা তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। মেসি নামক মায়ায় জড়িয়ে থাকা এই অভিনেত্রী মনে করেন, হার মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। এটি একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত মাত্র। তিনি পরের বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনার অপেক্ষায় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং আশাবাদী যে, দলটি আবারও দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে। পরীমনির এই পরাজয় মেনে নেওয়ার ধরন এবং ফুটবল নিয়ে তার এই অকৃত্রিম ভালোবাসা তার ভক্তদের নিকট তাকে আরও আপন করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই পোস্টটি কেবল আর্জেন্টিনার সমর্থক হিসেবেই নয়, বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তার মানবিক গুণেরই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন ভঙ্গ হয়েছে, তেমনি স্থগিত হয়েছে পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণা। তবে ভক্তরা মনে করছেন, এই পরাজয় পরীমনির জীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং আর্জেন্টিনা ভক্ত হিসেবে তার এই আক্ষেপ এবং রসিকতাপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি খেলার আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। অনেক সময় তারকারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন। পরীমনি বরাবরই তার সাহসিকতা এবং অকপট বক্তব্যের জন্য পরিচিত। আর্জেন্টিনা এবং মেসিকে ঘিরে তার এই আবেগের গল্প হয়তো অনেকদিন পর্যন্ত ভক্তদের স্মৃতিতে অমলিন থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, পরীমনির বিয়ের ঘোষণাটি কোনো প্রথাগত ঘোষণা ছিল না, এটি ছিল খেলার প্রতি তার এক গভীর ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক। আর্জেন্টিনা হারায় তিনি হয়তো ট্রফি পাননি, কিন্তু ভক্তদের বিনোদনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন। জীবন আর ফুটবল—দুটিই অনিশ্চয়তার খেলা। কখনো জয়ের উল্লাস, কখনো পরাজয়ের বিষাদ—এই দুই নিয়েই মানুষের বেঁচে থাকা। পরীমনি যেমনটি বলেছেন, আবার দেখা হবে। ঠিক তেমনই আর্জেন্টিনা আবার কোনো এক বিশ্বকাপে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে এবং তখন হয়তো পরীমনির ভক্তরাও নতুন কোনো চমকের অপেক্ষায় থাকবে। ততোদিন পর্যন্ত পরীমনি এবং তার আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এভাবেই বেঁচে থাকুক ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত