ছাগলনাইয়ায় ২০০ দোকান উচ্ছেদ, নোটিশ নিয়ে বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ছাগলনাইয়ায় ২০০ দোকান উচ্ছেদ, নোটিশ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অন্তত দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। প্রশাসনের দাবি, সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন, যানজট নিরসন এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়েই হঠাৎ অভিযান চালিয়ে তাঁদের দোকানপাট ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে উপজেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের সময় রাস্তার দুই পাশজুড়ে নির্মিত অস্থায়ী দোকান, টিনশেড কাঠামো এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। কিন্তু সড়কের নির্ধারিত জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনাগুলোর কারণে উন্নয়নকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পাশাপাশি রাস্তার পাশে এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং প্রায়ই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। জনস্বার্থ বিবেচনায় এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের আগে স্থানীয়ভাবে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের দোকান সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। ছাগলনাইয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হালদার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযানের আগের দিন সন্ধ্যায় মাইকিং করে সবাইকে অবহিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হলেও অনেকেই দোকান সরিয়ে নেননি। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রশাসনের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তাঁদের অভিযোগ, কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং বেশিরভাগ ব্যবসায়ী উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে পর্যাপ্তভাবে অবগত ছিলেন না। ফলে অনেকেই দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।

স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তাঁরা। দোকানের জন্য পৌরসভার লাইসেন্স রয়েছে এবং নিয়মিত বাজার কমিটিকে ফি ও করও পরিশোধ করেছেন। কিন্তু কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই প্রশাসন এসে দোকান ভেঙে দেয়। এতে দোকানের কাঠামোর পাশাপাশি মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাঁদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই প্রশাসনের লোকজন এসে দোকান ভাঙা শুরু করেন। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার সড়ক, ফুটপাত এবং ড্রেন দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল এবং যানবাহন চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। জনস্বার্থ এবং চলমান সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতেও এমন অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।

স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং যানজট নিরসনের জন্য উচ্ছেদ অভিযান প্রয়োজনীয় ছিল। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা মানুষদের হঠাৎ উচ্ছেদ করলে বহু পরিবার জীবিকা সংকটে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের অভিযানে আইনি প্রক্রিয়া, পর্যাপ্ত নোটিশ, ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে সমন্বয় এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হলে জনঅসন্তোষ কমে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমও আরও গ্রহণযোগ্য হয়। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিলে উন্নয়ন ও মানবিক দিকের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করা সম্ভব।

বর্তমানে পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসনের আশা, অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ার ফলে উন্নয়নকাজ আরও গতিশীল হবে এবং সড়কে যানজট কমে জনসাধারণের চলাচল সহজ হবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাঁদের ক্ষতির বিষয়ে প্রশাসনের সহানুভূতিশীল ভূমিকা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। ফলে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত