টেসলাকে চ্যালেঞ্জে এক্সপেং, আসছে নতুন বৈদ্যুতিক এসইউভি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৭ বার
টেসলাকে চ্যালেঞ্জে এক্সপেং, আসছে নতুন বৈদ্যুতিক এসইউভি

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে যাচ্ছে। চীনের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা এক্সপেং (XPeng) ঘোষণা দিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই এমন একটি বৈদ্যুতিক এসইউভি বাজারে আনবে, যা টেসলার সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল ‘মডেল ওয়াই’-এর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে। শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, এক্সপেংয়ের দাবি, নতুন এই মডেল বিক্রি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে ভবিষ্যতে মডেল ওয়াইকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে এই ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জার্মানির মিউনিখে নতুন মডেল উন্মোচন অনুষ্ঠানে এক্সপেংয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হে শিয়াওপেং বলেন, টেসলার মডেল ওয়াইকে ছাড়িয়ে যেতে তাঁদের আর খুব বেশি সময় লাগবে না। তাঁর ভাষায়, চীনের নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতারা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে তারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইভি মডেলের সঙ্গেও সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

এক্সপেং দীর্ঘদিন ধরেই উন্নত সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি মনে করছে, ভবিষ্যতের গাড়ির বাজারে শুধু ব্যাটারির সক্ষমতা নয়, বরং স্মার্ট সফটওয়্যার, স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিই হবে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। সেই লক্ষ্যেই তারা ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।

সম্প্রতি এক্সপেং তাদের নতুন বৈদ্যুতিক এসইউভি ‘এল০৩’ উন্মোচন করেছে। গাড়িটির প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৬০০ ইউরো, যা টেসলার মডেল ওয়াইয়ের প্রারম্ভিক মূল্য ৩৯ হাজার ৯৯০ ইউরোর তুলনায় কম। একই সময়ে চীন ও ইউরোপের বাজারে নতুন মডেলটি উন্মোচন করেছে এক্সপেং, যা কোম্পানির ইতিহাসে প্রথম। মূল্য, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারে একযোগে প্রবেশের কৌশল বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

চীনের অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠান অটোএক্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা লেই শিং মনে করেন, এল০৩ বাজারে বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে। তাঁর মতে, নতুন এই মডেল টেসলার মডেল ওয়াইয়ের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, বর্তমানে শুধু এক্সপেং নয়, চীনের আরও কয়েকটি বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও টেসলার বাজারে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।

বিশ্বের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বর্তমানে টেসলা, বিওয়াইডি, এক্সপেং, নিও এবং লিপমোটরের মতো কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে বিওয়াইডি বিক্রির দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবুও টেসলার মডেল ওয়াই এখনো বিশ্বের বহু দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর একটি এবং চীনের বাজারেও এটি শীর্ষ বিক্রিত মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এক্সপেং শুধু বৈদ্যুতিক গাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে উড়ন্ত গাড়ি, হিউম্যানয়েড রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। ভবিষ্যতের স্মার্ট পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে এসব প্রযুক্তিকে একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উদ্ভাবনী প্রযুক্তিও ইউরোপের বাজারে নিয়ে আসা হবে।

প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি ইউরোপে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও নজর দিয়েছে এক্সপেং। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ফক্সভাগেনসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইউরোপে দ্বিতীয় কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে। সম্ভাব্য এই কারখানাটি জার্মানিতে নির্মিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক্সপেংয়ের চেয়ারম্যান। ইউরোপে স্থানীয় উৎপাদন শুরু হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক্সপেংয়ের সঙ্গে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ফক্সভাগেনের কৌশলগত অংশীদারিত্বও এই প্রতিযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ফক্সভাগেন ইতোমধ্যে এক্সপেংয়ে বিনিয়োগ করেছে এবং কোম্পানিটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ ও সফটওয়্যার কিছু নতুন মডেলে ব্যবহার করছে। ভবিষ্যতে অন্য গাড়ি নির্মাতাদের কাছেও স্মার্ট ড্রাইভিং সফটওয়্যার লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এক্সপেংয়ের।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের প্রিমিয়াম গাড়ির বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ-বেঞ্জ ও অডির মতো জার্মান ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্য থাকলেও চীনের প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানিগুলো দ্রুত সেই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ভলভো কারসের প্রধান নির্বাহী হাকান স্যামুয়েলসনও সম্প্রতি বলেছেন, চীনা নির্মাতাদের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। তাঁদের মতে, চীনের নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক গাড়িতে এমন প্রযুক্তিগত সুবিধা রয়েছে, যা প্রিমিয়াম গাড়ির ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ বাজারে শুধু উৎপাদন নয়, সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় চালনা এবং স্মার্ট প্রযুক্তির সমন্বয়ই আগামী দিনের প্রতিযোগিতা নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই বাস্তবতায় এক্সপেংয়ের নতুন উদ্যোগ টেসলা, বিওয়াইডি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নির্মাতাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এক্সপেংয়ের নতুন মডেল বাজারে আসার পর সেটি বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ এবং ইউরোপকেন্দ্রিক সম্প্রসারণ কৌশল বৈশ্বিক বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে—এ বিষয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত