নোয়াখালীতে হেফাজতের মহাসমাবেশ আগামী ১ আগস্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১৪৭ বার
নোয়াখালীতে হেফাজতের মহাসমাবেশ আগামী ১ আগস্ট

প্রকাশ: ২৮ জুলাই  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ইসলামবিরোধী বিভিন্ন তৎপরতা, পবিত্র ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত এবং সাধারণ মুসলিম সমাজের নানা উদ্বেগের বিষয়গুলোকে সামনে রেখে আগামী পয়লা আগস্ট নোয়াখালীর ঐতিহাসিক জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে এক বিশাল ও মহাসমারোহপূর্ণ ইসলামী মহাসমাবেশ। ইতিমধ্যে এই মহাসমাবেশকে ঘিরে নোয়াখালীসহ পুরো বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল তথা দেশের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব সাড়া, ব্যাপক আগ্রহ ও ব্যাপক প্রস্তুতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এই ঐতিহাসিক সমাবেশে দলে দলে যোগ দেবেন এবং তাদের না চাওয়া ও দাবি আদায়ের পক্ষে সোচ্চার হবেন।

আসন্ন এই মহাসমাবেশের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অনুষ্ঠান সফল করার জন্য গত মঙ্গলবার থেকে জোরেশোরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং আগামী পয়লা আগস্ট শনিবার সকাল দশটায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, জমইয়্যাতুল মাদারিসিল কওমিয়্যাহ এবং ইসলামবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধ কমিটির যৌথ ও সুসংহত উদ্যোগে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। মূলত দেশের চলমান সামাজিক বাস্তবতায় ইসলামবিরোধী সকল ধরনের ষড়যন্ত্রের কঠোর প্রতিবাদ জানানো, উগ্রবাদী ও বিভ্রান্তিকর তৎপরতার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং বিশেষ করে হেযবুত তাওহীদসহ সমাজ ও ধর্মের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন বিতর্কিত সংগঠনকে আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুনির্দিষ্ট দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এই মহাসমাবেশ আহ্বান করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুশাসন রক্ষা এবং জনগণের মধ্যে ইসলামি সচেতনতা বৃদ্ধি করাও এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

এই বিশাল ও ঐতিহাসিক মহাসমাবেশকে সফল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং জাতীয় পর্যায়ের বরেণ্য নেতারা উপস্থিত থাকার সুনির্দিষ্ট সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে যাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের সম্মানিত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা শেখ আহমদ, আল্লামা খলিল আহমদ কুরাইশী, আল্লামা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, পীর সাহেব দেওনা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুফতি আরশাদ রহমানী, আল্লামা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, পটিয়ার মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি দিলাওয়ার হুসাইন, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, পীর সাহেব উজানি মাওলানা আশেক এলাহী, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মুফতি মাহফুজুল হক এবং শায়খে চরমোনাই সৈয়দ মুফতি মো. ফয়জুল করিমসহ আরও বহু জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতনামা মনীষী ওলামায়ে কেরাম।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও অনেক বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এই মহাসমাবেশে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এই দীর্ঘ আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন প্রখ্যাত বক্তা ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, ড. উবায়দুল্লাহ হামজা, ড. কাজী ইব্রাহিম, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুরহানী, মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সিরাজী, মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মুফতি সাখওয়াত হুসাইন রাজী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মীর ইদ্রিস নদভী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা, মুফতি বসীরুল্লাহ, মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী, মুফতি লুতফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজাউল করিম আবরার, মাওলানা আনিচুর রহমান আশরাফী, মুফতি আমজাদ হুসাইন, মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মুফতি মুজাম্মেল হুসাইন কামাল এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ কুষ্টিয়াসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বিরা।

শুধু জাতীয় নেতারাই নন, এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী ছাড়াও পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং বিভিন্ন মাদরাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিশেষ অতিথি ও অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আঞ্চলিক পর্যায়ের এই ব্যাপক সম্পৃক্ততার কারণে পুরো দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইসলামপ্রিয় জনসাধারণের মাঝে উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সাধারণ মুসল্লিদের যাতায়াত সুগম করার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি এবং প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে মহাসমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি বিশেষ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে আগমনকারী সকল ধর্মপ্রাণ ভাইদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তাঁরা কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খলভাবে মহাসমাবেশ সফল করেন। আয়োজকদের দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের এই সংকটময় ও সংবেদনশীল সময়ে নোয়াখালীর এই মহাসমাবেশ ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাতের অধিকার রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের ইসলামবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com