সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে নাহিদ ইসলামের শুভেচ্ছা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫০ বার
জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে নাহিদ ইসলামের শুভেচ্ছা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি এবং ৫ আগস্ট জাতীয় মুক্তি দিবস উপলক্ষে দেশের আপামর জনসাধারণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। এই বিশেষ দিনটিকে স্মরণ করে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবোজ্জ্বল দিন, যা বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের অবিচ্ছেদ্য ধারাক্রমের প্রতীক। ১৭৫৭ সালের পলাশীর প্রান্তরে ঔপনিবেশিক বেনিয়া শাসনের যে কালো অধ্যায় সূচিত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে এই ভূখণ্ডের মানুষ বারবার মুক্তির প্রত্যয়ে জেগে উঠেছে। তিতুমীরের ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা, হাজি শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকগুলো পেরিয়ে অসংখ্য মানুষের অদম্য আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই মূলত জাতি ঔপনিবেশিক শাসনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিল।

তবে বাণীতে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অর্জিত স্বাধীনতার আনন্দ এ দেশের মানুষের কপালে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেনি। ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিদায়ের পর বাংলার জনগণকে মুখোমুখি হতে হয়েছে এক নতুন ও ভিন্নরূপী বৈষম্যের। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের পর ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় আমাদের কাঙ্ক্ষিত লাল-সবুজের স্বাধীন পতাকা। লাখো শহীদের তাজা রক্ত এবং অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও পরিপূর্ণ জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনো পুরোপুরি গড়ে উঠতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিচক্ষণতার অভাব ও ব্যর্থতার কারণে বহু সোনালী স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়, যা এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বারবার হোঁচট খাইয়েছে।

ইতিহাসের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বারবার এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর গভীর চক্রান্ত ও আঘাত নেমে এসেছে, যার অত্যন্ত করুণ ও নির্মম প্রকাশ ঘটেছিল এক এগারোর কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অগণতান্ত্রিক আমলের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে আঠারো কোটি মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার কাঁধে চেপে বসেছিল এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা। মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনাকে বিতর্কিত করে মুজিববাদী আদর্শের নামে আওয়ামী জুলুমতন্ত্রের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। বাকশালী শক্তির অন্ধ আগ্রাসনে এ দেশের মেহনতি মানুষের গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সমৃদ্ধ সমাজ ও আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। ভিনদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ ইশারায় বারবার এ ভূখণ্ডের সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল বর্বর দমন-পীড়ন ও চরম উৎকণ্ঠার কালো ছায়া।

গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দমনপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে যখন শিক্ষার্থীরা ন্যায্য কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে, তখনো স্বৈরাচারের লাঠিয়াল বাহিনী ও পেটোয়া বাহিনী তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়। তবে সেই ভয়াবহ রক্তস্নাত অধ্যায় ও চরম নির্যাতনের মুখ থেকেই জন্ম নিয়েছিল ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব ও অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধের ইতিহাস। দেশের আপামর ছাত্রসমাজ, খেটে খাওয়া শ্রমিক, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, আলেম-ওলামা, সচেতন আইনজীবী, সাহসী নারী সমাজ, সংস্কৃতি কর্মী, নির্ভীক সাংবাদিক, প্রবাসী বাঙালি, দেশপ্রেমিক সৈনিক, তরুণ সেনা অফিসার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত ও অবিচল সংগ্রামে অবশেষে পতন ঘটে বাকশালী অপশক্তির। চৌদ্দ শতাধিক তাজা প্রাণ শহীদ এবং প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের পঙ্গুত্ববরণ ও মর্মান্তিক আহতের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় ৫ আগস্টের মাহেন্দ্রক্ষণ ও বহুল প্রতীক্ষিত মুক্তির প্রভাত।

নাহিদ ইসলাম তাঁর বাণীতে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, ৫ আগস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয়লগ্ন থেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের একাংশের প্রবল অসহযোগিতা ও দূরদর্শিতার অভাবে শহীদদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন বাস্তবে রূপ লাভ করতে পারেনি। ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংকীর্ণতা ও সুবিধাবাদের কাছে পরাজিত হয়েছে দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদী কাঠামো পুরোপুরি বিলোপ করার মূল গণআকাঙ্ক্ষা। বিপ্লবের দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রকৃত স্বস্তি ও শান্তি ফিরে আসেনি। বর্তমান প্রশাসনের নানামুখী দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী মনোভাব, ক্ষমতার মাত্রাতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ এবং আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা জাতিকে আবারও এক চরম সংকটের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক ও গৌরবময় মুহূর্তে সরকারের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে অবিলম্বে সকল প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করুন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি চিরতরে পরিহার করে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানসহ অতীতে সংঘটিত সকল গণহত্যার স্বচ্ছ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সবশেষে প্রিয় দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির এই শীর্ষ নেতা বলেন, শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদের রেখে যাওয়া পবিত্র আমানত হলো আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এর স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দলমত নির্বিশেষে সকলকে আজ এক সুতোয় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সকল অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে দৃঢ় কণ্ঠে সোচ্চার হতে হবে। ইনসাফ, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদাপূর্ণ একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার মহান ও পবিত্র সংগ্রামে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সক্রিয়ভাবে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণীর সমাপ্তি টানেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com