সর্বশেষ :
কক্সবাজারে ৪ পর্যটকের সাগরে প্রানহানি, এখনও নিখোঁজ ১ ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু অসুস্থ: উন্নত চিকিৎসায় বিএমইউতে স্থানান্তর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার দখল কেন্দ্রিক কোন্দলে বিএনপি অফিসে ভাঙচুর ‘ইশরাক পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে’: নিলোফার চৌধুরী খুলনার দাকোপে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেক নিউজ নিয়ন্ত্রণে আইনি পদক্ষেপ ও বাকস্বাধীনতার ভারসাম্য চান তথ্যমন্ত্রী ‘ক্ষমতাহীন নাগরিকই শাসকদলের চাঁদাবাজির শিকার’: হাসনাত আবদুল্লাহ সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা: নিহত ১, আহত ৮ গাজীপুরে গভীর রাতে বিধ্বংসী আগুন: পুড়ল মসজিদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নভেম্বরের শুরুতে স্কুল-কলেজে মিলতে পারে টানা ৩ দিনের ছুটি

জুলাই ঘোষণাপত্র পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে টিএসসিতে জমায়েত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫১ বার
জুলাই ঘোষণাপত্র পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে টিএসসিতে জমায়েত

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক চেতনা ও ঘোষণাপত্রের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হামলা ও নৈরাজ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) প্রাঙ্গণে এক বিশাল ও স্বতঃস্ফূর্ত গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার সকালের সোনালী আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে টিএসসি চত্বরে এসে সমবেত হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে নয়টার পর থেকে নেতাকর্মীদের এই উপস্থিতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ঘড়ির কাঁটায় সকাল দশটা বাজতেই পুরো টিএসসি এলাকা, রাজু ভাস্কর্য চত্বর ও এর আশপাশের সড়কগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক অভাবনীয় জনসমুদ্রে রূপ নেয়।

ঘটনাস্থলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে যে, দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর এবং স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটগুলো থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে নানা রঙের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই গণজমায়েতে অংশ নিয়েছেন। তরুণ শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ব্যানারগুলোতে জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণকারী নানা স্লোগান খোদাই করা ছিল। পুরো টিএসসি এলাকা জুড়ে তখন মুখরিত হয়ে উঠেছিল ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ এবং ‘জুলাইয়ের চেতনা, বাস্তবায়িত করতে হবে’—এমন নানামুখী স্লোগানে, যা চারপাশের পুরো পরিবেশকে এক অন্যরকম আবেগ ও বিপ্লবের আবহে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল। ঐতিহাসিক এই গণজমায়েতে কেবল ছাত্রশিবিরের স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় নেতারাই উপস্থিত ছিলেন না, বরং সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতাও এই কর্মসূচিতে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে তরুণদের উদ্দীপিত করেন।

এই জমমজমাট ও প্রতিবাদী গণজমায়েতে প্রধান আকর্ষণ ও কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জনপ্রিয় ছাত্রনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সুযোগ্য ভিপি সাদিক কায়েমসহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারা। তাঁরা মঞ্চে এসে উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর উদ্দেশে অত্যন্ত তেজদীপ্ত ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা তাঁদের সুদীর্ঘ বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে উচ্চারণ করেন যে, গত বছরের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতা যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটিয়েছিল, সেই বিজয়ের অন্যতম প্রধান দলিল হলো ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই ঘোষণাপত্রের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান হচ্ছে না, যা দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ ও মুক্তিকামী মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, দেশের এই সংকটময় ও পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাঠামোগত ও সাংবিধানিক সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। কোনো ধরনের কালক্ষেপণ বা ষড়যন্ত্র না করে অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকারকে আরও বেশি সাহসী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ও সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর যেসব কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন যে, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো নানা কৌশলে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাই অবিলম্বে এসব ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় ছাত্রসমাজ বসে থাকবে না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

এদিকে এত বড় একটি গণজমায়েত ও ছাত্রসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে ও কঠোর পাহারায় থাকতে দেখা যায়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল টিম যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করে। পরিশেষে, ছাত্রশিবিরের এই সুশৃঙ্খল গণজমায়েত ও জোরালো দাবি আদায়ের হুংকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে তরুণ সমাজের আপসহীন মনোভাবকে আবারও নতুন করে জাতির সামনে জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com