হাসানের ৪ উইকেটের দিনে ধুঁকছে বাংলাদেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭২ বার
হাসানের ৪ উইকেটের দিনে ধুঁকছে বাংলাদেশ
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি নিতে ডারউইনের মারারা ওভালে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। ম্যাচের প্রথম দিনে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের চোখ জুড়ানো ও দায়িত্বশীল সেঞ্চুরির সুবাদে বাংলাদেশ দল প্রথম ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে তুলতে সক্ষম হলেও, প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে এসে বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের সামনে টাইগার বোলারদের সংগ্রাম এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয় দলটির টিম ম্যানেজমেন্টকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে দুই উইকেটে ৫১ রান সংগ্রহ করে দিন শুরু করা স্বাগতিক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ আজ দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী উপহার দিয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে সব উইকেট হারিয়ে মোট ৩৫৫ রান সংগ্রহ করে। এর ফলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সংগৃহীত ২৬৩ রানের জবাবে অস্ট্রেলিয়ান একাদশ প্রথম ইনিংসে ৭৩ রানের একটি সম্মানজনক ও মনস্তাত্ত্বিক লিড নিয়ে চালকের আসনে বসে গেছে।
প্রথম ইনিংসে এই বড় সংগ্রহ গড়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছেন অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী ও মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। বিশেষ করে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে স্বাগতিকদের ইনিংসের মেরুদণ্ড শক্ত করে দেন টিগ ওয়াইলি। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও পরিপক্ব ব্যাটিং করে ১৭৭ বল মোকাবিলা করে ১৩০ রানের একটি অনবদ্য ও নান্দনিক ইনিংস উপহার দেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন জেক ডোরান এবং কুর্টিস পিটারসন, যারা উভয়েই চমৎকার দুটি ফিফটি হাঁকিয়ে টাইগার বোলারদের ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছেন। পিটারসন ৫৩ ও ডোরান ৭৬ রানের মহামূল্যবান ইনিংস খেলে দলের লিড নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন। প্রতিপক্ষের এমন সাবলীল ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। দলের সেরা বোলারদের ব্যর্থতার দিনে একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আলো ছড়িয়েছেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম দিনেই দলের খাতায় এক উইকেট জমা করা হাসান দ্বিতীয় দিনে আরও দুর্দান্ত বোলিং করে একে একে তুলে নেন আরও তিনটি উইকেট। সব মিলিয়ে তিনি ১৯ ওভার বল করে পাঁচটি মেইডেন ওভারসহ মাত্র ৪২ রান খরচ করে ৪টি উইকেট শিকার করেন, যা বোলিং আক্রমণের একমাত্র স্বস্তির খবর।
হাসানের এই অসাধারণ সাফল্যের বিপরীতে দলের বাকি পেসার ও স্পিনারদের বড় অংশের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক। দলের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ প্রথম দিনে একটি উইকেট পাওয়ার পর আজ আরও একটি উইকেট নিজের ঝুলিতে ভরেন। তিনি মোট ১৫ ওভার বল করে চারটি মেইডেনসহ ৫৬ রান খরচ করে সামগ্রিকভাবে ২ উইকেট শিকার করতে সক্ষম হন। তবে পেস আক্রমণের বাকি তিন বোলার খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন এবং তরুণ মুশফিক হাসান যথেষ্ট খরুচে ছিলেন এবং নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। খালেদ আহমেদ ১২.২ ওভার বল করে ওভারপ্রতি ৪.৪১ গড়ে রান দিয়ে মাত্র ১টি উইকেট পান। অন্যদিকে ইবাদত হোসেন ১৩ ওভার বল করে ৫.০৮ এর বেশি খরুচে ইকোনমি রেটে রান দিয়ে ১টি উইকেট পকেটে পুরেন। টেস্ট দলের অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা উদীয়মান পেসার মুশফিক হাসানের জন্য দিনটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং করার সময় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম আঙুলে চোট পাওয়ায় মাঠের বাইরে চলে যান এবং পর্যবেক্ষণে থাকার কারণে আজ তিনি বোলিং করতে পারেননি। তাইজুলের শূন্যস্থান পূরণ করতে এসে মুশফিক হাসান মাত্র ৪ ওভার বল করেই ৩৮ রান খরচ করে বসেন এবং কোনো উইকেটের দেখা পাননি, যা বোলিং ইউনিটের দুর্বলতাকেই প্রকট করে তুলেছে।
বোলিংয়ের এই ব্যর্থতা ও চাপের রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ দল। মাত্র ৫ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়েই টাইগাররা হারিয়ে বসেছে তাদের দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে। ইনিংসের শুরুতেই ক্যাম্পবেল থম্পসনের বলে প্রতিপক্ষের ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে মাত্র ৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সাদমান ইসলাম। ঠিক তার পরের ওভারেই দলের মিডল অর্ডারের ভরসা মুমিনুল হক একইভাবে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান, তার সংগ্রহও মাত্র ৬ রান। দিনের খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উইকেটে টিকে থেকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, যিনি ১৩ বল খেলে ৭ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার মুহূর্তে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ২ উইকেটে মাত্র ১৯ রান। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বোলারদের মধ্যে থম্পসন একাই ১০ রান খরচ করে শিকার করেছেন দুটি উইকেট, যা স্বাগতিকদের বোলিং আধিপত্যকে আরও বেশি স্পষ্ট করে তুলেছে।
প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও এই দ্রুত উইকেট পতনের ফলে ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশ দল এখন মারাত্মক চাপে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন এবং পেস সহায়ক উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার যে মূল লক্ষ্য নিয়ে এই প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমেছিল টাইগাররা, তার বাস্তবায়ন কিছুটা হলেও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মূল টেস্ট সিরিজের আগে দলের ব্যাটারদের এই অতিদ্রুত আউট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা এবং বোলারদের অতিরিক্ত রান দেওয়ার দুর্বলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠা না হলে আসন্ন মূল লড়াইয়ে বড় ধরনের খেসারত দিতে হতে পারে। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম দিনে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল, বোলিং ও ব্যাটিংয়ের সাম্প্রতিক ধস তা কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে। আগামীকাল ম্যাচের শেষ ও তৃতীয় দিনে টাইগার ব্যাটাররা কীভাবে এই বিপর্যয় সামাল দিয়ে নিজেদের ইনিংস মেরামত করেন এবং অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের মোকাবিলা করেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী কোটি কোটি মানুষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com