সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২২ বার
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জাইমা রহমানের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। বাংলাদেশে বৈধভাবে গাড়ি চালানোর সরকারি অনুমতি বা লাইসেন্স পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সম্প্রতি একটি অফিশিয়াল ড্রাইভিং টেস্ট বা গাড়ি চালানোর পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এই পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতার সুবাদে দেশের সড়ক ব্যবহার করার সামগ্রিক বাস্তব চিত্র, সড়কে চলাচলের নানা বিশৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো নিয়ে নিজের গভীর ভাবনা ও উপলব্ধি একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে শেয়ার করেছেন। তার এই মননশীল ও বাস্তবসম্মত মন্তব্য দেশের সচেতন মহলে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং সড়ক নিরাপত্তার মতো একটি অতি সংবেদনশীল জাতীয় ইস্যুকে নতুন করে ভাবার খোরাক জুগিয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নিজের অফিসিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জাইমা রহমান লন্ডনে অর্জিত ড্রাইভিং টেস্টের অভিজ্ঞতা এবং সম্প্রতি বাংলাদেশে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাগুলোর মধ্যে এক চমৎকার তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দেশের মাটিতে ড্রাইভিং টেস্ট দিতে গিয়ে তার কেবল একটি সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ব্যাপারটিই মাথায় কাজ করেনি, বরং তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন একজন চালক বা পথচারী হিসেবে আমাদের দেশের সড়ক ব্যবহারের সামগ্রিক অভিজ্ঞতা আসলে কেমন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যবস্থাগুলোর সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাস্তব সম্পর্কটা ঠিক কী ধরনের। রাস্তার এ মাথা থেকে ও মাথা যাওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রচলিত সংস্কৃতি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসংগতিগুলো তার এই লেখায় অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটে উঠেছে।
একজন সাধারণ পথচারী হিসেবে আমাদের দেশের সড়কগুলোতে চলতে গিয়ে প্রতিদিন মানুষকে কী ধরনের চরম বিপত্তি ও অমানবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়, তার একটি বাস্তবসম্মত বর্ণনা উঠে এসেছে তার লেখায়। পর্যাপ্ত পরিমাণ জেব্রা ক্রসিং বা নিরাপদ পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতির গাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার চিত্র তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষের এই প্রতিদিনের লড়াইয়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নগরীর অধিকাংশ প্রধান সড়ক ও অলিপলিতে পথচারীদের হাঁটার নির্ধারিত ফুটপাতগুলো বিভিন্ন অবৈধ দখলদার, ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট বা অন্যান্য যানবাহনের দখলে চলে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে মূল রাস্তার পিচের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়, যা এক মারাত্মক দুর্ঘটনা ঝুঁকি তৈরি করে। অন্যদিকে নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র চলাচলকারী বাস, বেপরোয়া মোটরসাইকেল, উল্টোপথে চলা রিকশা এবং প্রাইভেট কারের বিশৃঙ্খল ভিড়ের মধ্য দিয়ে হেঁটে বা গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কতটা দুরূহ ও স্নায়ুক্ষয়ী অভিজ্ঞতা, তা তিনি নিজের চালক ও পথচারী সত্তা দিয়ে অনুভব করেছেন।
যাত্রী এবং চালক—উভয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমাদের সড়কের বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির একটি নিরপেক্ষ ব্যবচ্ছেদ করেছেন জাইমা রহমান। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে এই কথাটি তুলে ধরেছেন যে, আমাদের দেশের প্রচলিত নীতিমালায় সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট গাড়ি, লাইসেন্স প্রদান কিংবা আইন অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অথচ প্রকৃত অর্থে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি কখনোই কেবল যান্ত্রিক বা আইনগত শাস্তির বিষয় হতে পারে না; বরং এটি হতে হবে সম্পূর্ণভাবে সেই মানুষগুলোকে কেন্দ্র করে, যারা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কগুলো ব্যবহার করে পথ চলেন। সাধারণ পথচারী, শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং প্রতিদিনের কর্মমুখী যাত্রীদের জীবন রক্ষা করা এবং তাদের চলাফেরা নিরাপদ করাই হতে হবে যেকোনো সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
আমাদের সামগ্রিক সড়ক ব্যবস্থাপনায় একটি কাঙ্ক্ষিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে কেবল সাময়িক কিছু জরিমানা বা কঠোর আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, পরিবর্তন যদি আমরা সত্যিই সমাজ ও রাষ্ট্রে দেখতে চাই, তবে আমাদের সামগ্রিক চিন্তাভাবনার কাঠামো বা মাইন্ডসেটকেই নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। যান্ত্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তার এই সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী ভাবনা দেশের সাধারণ তরুণ সমাজ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণে নতুন প্রেরণা যোগাবে বলে সচেতন নাগরিকরা বিশ্বাস করেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে দেশের একটি অন্যতম প্রধান জাতীয় সংকট নিয়ে একজন তরুণ নেত্রীর এমন দায়িত্বশীল ও মননশীল প্রকাশ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী বার্তা বয়ে এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত