ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার
ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘিরে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘ এক যুগ পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা ঘিরে সংগঠনের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নতুন কমিটিতে দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা ও বিভিন্ন আন্দোলন-কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পদবঞ্চিত নেতারা কমিটি ঘোষণার রাতেই বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

রোববার রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে ওমর ফারুক মানিককে সভাপতি এবং ফাতিন ইশরাক মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর নতুন কমিটি ঘোষণায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হওয়ার কথা থাকলেও পদবঞ্চিতদের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরুতেই দেখা দিয়েছে বিরোধ ও ক্ষোভ। বিক্ষোভকারী নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, বিগত বছরগুলোতে সংগঠনের কঠিন সময়ে যারা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অনেকেই নতুন কমিটিতে জায়গা পাননি।

ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে ওমর ফারুক এবং সহ-সভাপতি হিসেবে জাকির হোসেন নাইমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে তারেক রহমানকে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফারহান ইকবাল সাদ।

কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে ঘোষিত কমিটির পরবর্তী সাংগঠনিক কাঠামো কেমন হবে, সেদিকেও নেতাকর্মীদের নজর রয়েছে।

পদবঞ্চিত নেতাদের ভাষ্য, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ছিল না। সর্বশেষ ২০১৪ সালে কলেজ শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন বলে দাবি তাদের।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নতুন কমিটি না থাকলেও তারা কেন্দ্রীয় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয় ছিলেন। সংগঠনের কঠিন সময়ে ক্যাম্পাস এবং রাজপথে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অনেককে নতুন নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তাদের দাবি, ঘোষিত কমিটি পুনর্বিবেচনা করে সংগঠনের ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক ধীমান নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়টিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হিসেবে উল্লেখ করলেও কমিটির গঠন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কয়েকজন নেতা সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। সংগঠনের কঠিন সময়ে ক্যাম্পাস ও রাজপথে তাদের অংশগ্রহণ ছিল বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু নতুন কমিটিতে এসব নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাদের নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বয়স, জেলা ও মহানগরসংক্রান্ত নানা বিষয় সামনে আনা হয়েছে। তার মতে, সংগঠনের জন্য কঠিন সময়ে কাজ করা নেতাদের মূল্যায়ন না হওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের প্রশ্ন। ছাত্ররাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীরা সাধারণত আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দলীয় কর্মসূচিতে নিজেদের ভূমিকার ভিত্তিতে নেতৃত্বে আসার প্রত্যাশা করেন। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হলে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা দেয়।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রদল নেতা মাইন উদ্দিনও নতুন কমিটিতে নিজের নাম না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন।

তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করার পরও নতুন কমিটিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি ঘোষিত কমিটি বাতিল করে নতুন করে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ দেশের অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এবং এখানকার ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসও দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময়ে এই কলেজ থেকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে নেতৃত্ব উঠে এসেছে। ফলে কলেজ শাখার নতুন কমিটি নিয়ে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।

দীর্ঘ ১২ বছর পর নতুন কমিটি ঘোষণার কারণে সংগঠনের ভেতরে নতুন নেতৃত্ব তৈরির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে শুরুতেই পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভ এবং কমিটি পুনর্গঠনের দাবি নেতৃত্বের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামোয় কলেজ শাখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ কমিটি গঠন করা গেলে ক্যাম্পাসে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে তার প্রভাব পড়তে পারে।

পদবঞ্চিত নেতাদের বিক্ষোভের পর নতুন কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় বা স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেন কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকায় পদবঞ্চিতদের দাবির কিছু অংশ পরবর্তী কমিটিতে বিবেচনায় আসবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। তবে পদপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষার পর নতুন কমিটি ঘোষণাকে অনেকে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু পদবঞ্চিত নেতাদের অভিযোগ এবং রাতের বিক্ষোভ সেই নতুন শুরুর সামনে প্রশ্নও তৈরি করেছে।

বিক্ষোভকারী নেতাদের প্রধান দাবি হলো, সংগঠনের কঠিন সময়ে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা কর্মীদের বাদ দিয়ে নেতৃত্ব গঠন করা হলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে ঘোষিত কমিটি আগামী দিনে কীভাবে কলেজ শাখার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মাধ্যমে কতটা সাংগঠনিক ঐক্য ফিরিয়ে আনতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটলেও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ প্রমাণ করছে, নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনার মাধ্যমে এই অসন্তোষ নিরসন করা সম্ভব হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন সবার নজর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন এবং পদবঞ্চিত নেতাদের দাবির বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের দিকে। দীর্ঘদিন পর নতুন নেতৃত্ব পাওয়া কলেজ শাখাটি ঐক্য ধরে রেখে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারে কি না, সেটিই আগামী দিনের বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত