ছয় দফা দাবিতে ১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪ বার
ছয় দফা দাবিতে ১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য জোটের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চ শুরু হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবি সামনে রেখে শনিবার সকাল সোয়া ৮টার পর রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে সকাল ৭টার দিকে একই এলাকায় সমাবেশের মাধ্যমে লং মার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করা হয়।

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার একটি শাপলা চত্বর থেকে লং মার্চের যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে গড়ায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দাবি আদায়ের ধারাবাহিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই পথযাত্রায় জোটের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের সমর্থকদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্য জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। জোটের নেতারা এসব দাবিকে জনগণের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনৈতিক স্বস্তি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে তুলে ধরছেন।

বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে সামনে রেখে জোটটি তাদের কর্মসূচির রাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার জন্য এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চের পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল এবং মীরসরাই এলাকায় পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। এসব পথসভায় জোটের নেতারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন এবং কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।

লং মার্চের চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান। সেখানে কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে রাজধানী থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক কর্মসূচি চট্টগ্রামে গিয়ে একটি বড় সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা সেখানে জড়ো হওয়ার পর জোটের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে সভা, প্রচার ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে লং মার্চ সফল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, বিভিন্ন স্থানে অবস্থান এবং পথসভাগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বয়ও করা হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের এই লং মার্চের ঘোষণা আসে গত ৬ আগস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে অনুষ্ঠিত একটি অবস্থান কর্মসূচি থেকে। ওই কর্মসূচি থেকে জোটের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক লং মার্চ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচির কথা জানান।

ঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে আরেকটি লং মার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লং মার্চ আয়োজনের কথা রয়েছে। সিলেট অভিমুখী কর্মসূচিটি রেলপথে করার পরিকল্পনা জানিয়েছে জোট। এসব কর্মসূচির ধারাবাহিকতা শেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তাদের ঘোষিত দাবিগুলো নিয়ে জনমতকে আরও সুসংগঠিত করা এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক ও জনসম্পৃক্ত চাপ তৈরি করা। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আন্দোলনকে দেশব্যাপী বিস্তৃত করার লক্ষ্যও রয়েছে।

তবে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত যোগাযোগপথ হওয়ায় দীর্ঘ বহর নিয়ে লং মার্চের প্রভাব যান চলাচলে পড়তে পারে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

লং মার্চ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের এই কর্মসূচি একদিকে যেমন জোটটির রাজনৈতিক অবস্থানকে সামনে আনছে, অন্যদিকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে জোটটির রাজনৈতিক তৎপরতা আরও দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রাজনীতির পাশাপাশি কর্মসূচিতে উত্থাপিত দাবিগুলোর একটি বড় অংশ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলার মতো বিষয়গুলো সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার অংশ। ফলে এসব দাবি কতটা জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারে, তা এই লং মার্চের মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি ও পরবর্তী কর্মসূচির মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া লং মার্চ এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। পথে একাধিক পথসভা এবং শেষ পর্যায়ে লালদীঘি ময়দানের জনসভাকে ঘিরে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কতটা রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে, তা নির্ভর করবে এর অংশগ্রহণ, জনসম্পৃক্ততা এবং পরবর্তী ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজকের ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ কেবল একটি বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়; বরং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত চলমান ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির সূচনা। ফলে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আজকের সমাবেশের পরও এই রাজনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে রংপুর, খুলনা ও সিলেটকে কেন্দ্র করে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জোটটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com