প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এক বছর না পেরোতেই সেই প্রত্যাশায় ভাটা পড়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দেওয়া ইশতেহারের ৪৬টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১৩টি বাস্তবায়িত হলেও অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি জাকসুর কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কিত ঘটনায় জড়িয়ে পড়া নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এক বছর মেয়াদ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সক্রিয় হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ। নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে জয় পায় ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল। বাকি পাঁচটি পদের মধ্যে দুটি পদে জাতীয় ছাত্রশক্তি, দুটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সহসভাপতি বা ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন হওয়ায় শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। নতুন নেতৃত্বের কাছে তাঁদের প্রত্যাশাও ছিল অনেক। ক্যাম্পাসে আবাসিক হলের পরিবেশ, খাবারের মান, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয়ে পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এক বছর পর এসে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এবং জাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সেই আশার সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাকসু নির্বাচনে বিজয়ী সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের ৯ দফা ইশতেহারে ক্যাম্পাস-সংশ্লিষ্ট ৪৬টি বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৩টি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। আরও ৩০টি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। দুটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আর একটি প্রতিশ্রুতি, স্বাস্থ্যবিমা, জাকসু নির্বাচনের আগেই চালু ছিল।
তবে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা ৩০টি প্রতিশ্রুতির বড় একটি অংশ এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে বলে জানা গেছে। কোথাও কমিটি গঠন করা হয়েছে, কোথাও কমিটির সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে শুধু আলোচনা পর্যন্তই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার সুফল কতটা শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তহবিল গঠন, সম্পূরক বৃত্তির পরিমাণ বৃদ্ধি, সেশনজট নিরসন ও কার্যকর শিক্ষা ক্যালেন্ডার বাস্তবায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণার প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সরবরাহ এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে ভাষা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজন করা হলেও দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়।
ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার ক্ষেত্রেও প্রতিশ্রুতির বড় অংশ বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিবেশগত মহাপরিকল্পনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং ব্যবস্থা জোরদারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডাইনিংয়ে ভর্তুকি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ছাত্রী হলের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়েও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। আধুনিক ডিসপেনসারি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের কথা বলা হলেও এ ক্ষেত্রে মূলত কর্মশালা আয়োজনের মধ্যেই কার্যক্রম সীমিত রয়েছে। খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়াম উন্নয়নের কাজও সম্পন্ন হয়নি।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা খেলার মাঠের কাজ জাকসু নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল এবং নির্বাচনের পর তা চালু হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণও চলছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে জাকসুকে আলাদা করে কোনো উদ্যোগ নিতে হয়নি। ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও আগেই ছিল।
চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স চালুর পাশাপাশি চিকিৎসাকেন্দ্রে ওষুধের তালিকা বা আইটেম বাড়ানো হয়েছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল সুবিধা চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সংখ্যা, ট্রিপ ও রুট বাড়ানোর পাশাপাশি লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধাও চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে সাইকেল লেন ও সাইকেল স্ট্যান্ড স্থাপনের মতো কিছু প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জাকসুর বিভিন্ন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রশংসা পেয়েছে। আন্তহল ও আন্তবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর সক্রিয় শিক্ষার্থী সংসদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ভূমিকা কিছুটা দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সামগ্রিক চিত্র নিয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইশতেহারে দেওয়া অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে এবং বাকি কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কিছু কাজ প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জাকসু নেতাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত আব্দুর রশিদ জিতু নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ থাকার এবং আবাসিক হলগুলোতে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি কয়েকটি হল সংসদের নেতাকে নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এ বিষয়ে জিতুর বক্তব্য, রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের ভিপি নন; তিনি শিক্ষার্থীদের ভিপি। তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরাই করবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকেও নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল, তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি করবে না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না। কিন্তু জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলামকে জাতীয় নির্বাচনের সময় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
মাজহারুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর কোনো কর্মসূচি তাঁরা করেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অবস্থান থেকে ক্যাম্পাসের বাইরে কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এতে জাকসুর কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পাশাপাশি বছরজুড়ে জাকসুর কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক এবং কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতির খাবারের মান ও চিকিৎসাসংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে তৎপরতা আলোচনায় আসে। তবে এসব তৎপরতার মধ্যেই কিছু ঘটনায় তাঁদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়।
গত ২২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার একটি দোকানের খাবারে মাছি পাওয়ার অভিযোগের পর দোকানের এক কর্মচারীর গায়ে খাবারের বাটি ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে হোসনে মোবারকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে দোকানদার, কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাসে আলোচনা তৈরি হয়।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল জাকসুর উদ্যোগে একটি রাজনৈতিক সেমিনার আয়োজন নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়। সেমিনারের বিষয়বস্তু নিয়ে ভিপি আব্দুর রশিদ আপত্তি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পর সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়।
জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গত ২২ জুন বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনের সময় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। ঘটনাটি নিয়েও ক্যাম্পাসে সমালোচনা হয়।
এ ছাড়া ক্যাম্পাসে অটোরিকশা চলাচলের অনুমোদনের নামে রিকশাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভিপি আব্দুর রশিদের নাম আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে এবং একটি অডিও কথোপকথনকে কেন্দ্র করে ভিপির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্যও রয়েছে।
ভিপি আব্দুর রশিদের ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও আবাসিক হলে অবস্থান করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হলে থাকার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সমালোচনার মুখে পরে তা বাতিল করে। এরপরও ভিপির হলে অবস্থান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া একটি শিক্ষার্থীকে হল থেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে কয়েকজন ছাত্রনেতার সঙ্গে তাঁর বাক্বিতণ্ডা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা জাকসুর নেতৃত্বের আচরণ, দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সাংস্কৃতিক সম্পাদক মহিবুল্লাহ শেখ জিসানের বিরুদ্ধেও একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের অর্থায়ন নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে আরেকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জেরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এসব ঘটনাকে ঘিরে জাকসুর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। দীর্ঘদিন নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত থাকার পর শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, নতুন সংসদ তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং ক্যাম্পাসে একটি জবাবদিহিমূলক পরিবেশ তৈরি করবে। কিন্তু এক বছর শেষে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে অসন্তোষ এবং নেতাদের বিভিন্ন বিতর্ক সেই প্রত্যাশাকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলামের মতে, গতবারের নির্বাচন ছিল দীর্ঘ বিরতির পর একটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন। গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তনের প্রত্যাশা এবং দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি করেছিল, এবার সেই তীব্রতা নেই। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
এরই মধ্যে নতুন জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগের মতো ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এক বছর আগে যে ক্যাম্পাসে নির্বাচন ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল, সেখানে এবার প্রত্যাশার সেই তীব্রতা অনেকটাই কম। ফলে আগামী দিনে জাকসু তার প্রতিশ্রুতিগুলো কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কতটা জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে জাকসুর ভূমিকা শুধু প্রতিশ্রুতি ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব পরিবর্তনের মাধ্যমে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করবে—আগামী সময়েই তার উত্তর মিলবে।