ফেনীতে মলম পার্টি ও ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ বার
ফেনীতে মলম পার্টি ও ডাকাত চক্রের ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফেনীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মলম পার্টির সদস্য, মাদক কারবারি, চোর-ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পর্যন্ত ফেনী মডেল থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই অভিযানের পর ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাস কাউন্টার ও গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতস্থলের আশপাশে মলম পার্টির তৎপরতা এবং সাধারণ যাত্রীদের টার্গেট করে প্রতারণা ও লুটপাটের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ বলছে, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ফেনীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফেনী মডেল থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় স্টারলাইন বাস কাউন্টার ও এর আশপাশের এলাকা থেকে মলম পার্টির সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত লিটন মিয়াকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লিটন মিয়া যে চক্রের সঙ্গে জড়িত, তারা বিভিন্ন সময় বিদেশফেরত যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের লক্ষ্য করত। চক্রের সদস্যরা কৌশলে যাত্রীদের চেতনানাশক দ্রব্য খাওয়ানোর পর তাঁদের শরীরে মলম বা অন্য কোনো পদার্থ লাগিয়ে বিভ্রান্ত করত। পরে সেই সুযোগে ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যেত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফেনী শহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রিক এলাকায় বাস কাউন্টার, মহাসড়ক ও যাত্রী চলাচলের স্থানগুলোতে প্রতারণামূলক অপরাধের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা অনেক সময় সঙ্গে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী বহন করেন। অপরাধী চক্রগুলো এমন যাত্রীদের গতিবিধি অনুসরণ করে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে পুলিশের অভিযানের তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে পুলিশের অভিযানে আরও একটি প্রতারণা ও লুটপাটের কৌশলের তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মহিপাল থেকে লেমুয়াগামী সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের টার্গেট করে একটি চক্র নকল সোনার বার দেখিয়ে প্রতারণা করত। পাশাপাশি চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহার করে যাত্রীদের অলংকার ও নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গেও ওই চক্রের সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ধরনের অপরাধে সাধারণত অপরাধীরা প্রথমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। পরে লোভনীয় কোনো বস্তু বা কথাবার্তার মাধ্যমে তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার পর চেতনানাশক দ্রব্য ব্যবহারের মতো কৌশলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে অসহায় করে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নেওয়া হয় বলে পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে।

ফেনীতে সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে শুধু মলম পার্টি নয়, মাদক কারবারি, চোর-ডাকাত চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানকে আরও জোরদার করার বিষয়টি সামনে এসেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযানে উদ্ধার হওয়া মালামাল এবং সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ফেনীকে অপরাধ ও মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে বাস কাউন্টার, মহাসড়ক, সিএনজি অটোরিকশা কিংবা অন্যান্য গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো দ্রব্য গ্রহণ করলে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একইভাবে অস্বাভাবিকভাবে কম দামে মূল্যবান কোনো সামগ্রী কেনার প্রস্তাব বা নকল সোনার বার দেখিয়ে লাভের প্রলোভন দেখানো হলেও সতর্ক থাকা জরুরি।

ফেনীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্রগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও কার্যকর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, বাস কাউন্টার ও মহাসড়ককেন্দ্রিক অপরাধ দমন এবং চেতনানাশক ব্যবহার করে লুটপাটের অভিযোগগুলোর তদন্ত জোরদার করা হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতে পারে।

পুলিশের অভিযানে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তির পাশাপাশি অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রত্যাশাও তৈরি হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

ফেনী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। মাদক, চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা এবং মলম পার্টির মতো অপরাধ দমনে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের কার্যক্রম চলবে।

বিশেষ করে জনবহুল এলাকা ও যাত্রীদের চলাচলকেন্দ্রিক স্থানগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধ করতে পুলিশের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলা, মূল্যবান সামগ্রী বহনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে।

ফেনীতে ১৬ জনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আপাতত একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও এর ধারাবাহিকতা এবং তদন্তের অগ্রগতিই বলে দেবে সংশ্লিষ্ট অপরাধী চক্রগুলোর তৎপরতা কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত