কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট ফের খুলে দেওয়া হলো

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৯ বার
কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট ফের খুলে দেওয়া হলো

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বাড়তে থাকায় রাঙামাটির কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে জলকপাটগুলো দ্বিতীয়বারের মতো খুলে দেওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের সতর্কতামূলক তৎপরতা সামনে এসেছে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল। হ্রদের পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় এবং রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্পিলওয়ের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ ফুট এমএসএলে নেমে এলে পুনরায় জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। পানির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী জলকপাট খোলার পরিমাণ কমানো বা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা বর্তমানে ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট এমএসএল। পরিস্থিতি বিবেচনায় স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানি ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খোলার বিষয়টি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং আশপাশের এলাকার মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল, নদী ও খালসংলগ্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফলে পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে আগাম ব্যবস্থা নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬ দশমিক ০১ ফুট এমএসএলে পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট প্রথম দফায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। ওই সময় প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি বিবেচনায় জলকপাটগুলো পর্যায়ক্রমে আরও বেশি খোলা হয়। একপর্যায়ে প্রতিটি গেট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয়েছিল। তখন স্পিলওয়ে দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়। পানির চাপ কমিয়ে হ্রদের নিরাপদ ধারণক্ষমতার মধ্যে পানি ধরে রাখার লক্ষ্যেই ওই সময়ে ধাপে ধাপে গেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পরিস্থিতির উন্নতি হলে হ্রদের পানির উচ্চতা কমতে শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে হ্রদ থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে জলকপাটগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই লেকের পানির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। বর্তমানে পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে নিচে থাকলেও পানি বৃদ্ধির গতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাঁধ ও আশপাশের এলাকার সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

কাপ্তাই বাঁধ বাংলাদেশের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়া-কমার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন এবং আশপাশের জনপদের নিরাপত্তার বিষয়গুলোও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তাই বর্ষা ও অতিবৃষ্টির সময় কাপ্তাই লেকের পানির স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিলওয়ের গেট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এবারও হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুটে পৌঁছানোর পর ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত পানি ধীরে ধীরে নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পানি ছাড়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধাপে ধাপে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় এরই মধ্যে পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে হ্রদ ও নদীসংলগ্ন নিচু এলাকার মানুষের জন্য পানির স্তর বৃদ্ধির বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ফলে ভাটির দিকে পানির প্রবাহও বাড়তে পারে। তাই জলকপাট খোলার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের পরিস্থিতিও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় মানুষের কাছে কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়লে নৌযান চলাচল, বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং যোগাযোগব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এদিকে জলকপাট খোলার ফলে কী পরিমাণ পানি নিষ্কাশন হচ্ছে, তা পানির উচ্চতা ও গেট খোলার পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে প্রতিটি গেট মাত্র ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে। পানি ১০৫ ফুটে নেমে এলে গেট বন্ধ করার পরিকল্পনা থাকায় পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এর আগে ২৯ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফায় জলকপাট খোলার অভিজ্ঞতা এবারও কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে সহায়তা করছে। তখন পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গেটের খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছিল এবং পরে পানির স্তর কমলে গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একইভাবে পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৯ ফুট এমএসএলের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে গেলে অতিরিক্ত পানির চাপ সামাল দেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ কারণে বর্তমান অবস্থায় ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট পানির উচ্চতা থাকলেও ভবিষ্যতে পানি আরও বাড়লে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি হ্রদের পানির স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী জলকপাট খোলার মাত্রা পরিবর্তন করা হতে পারে।

পাঁচ দিনের ব্যবধানে ১৬টি জলকপাট আবারও খুলে দেওয়ার ঘটনায় কাপ্তাই হ্রদের পানির গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন করে নজরদারি শুরু হয়েছে। আপাতত প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা রেখে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নামলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী কয়েক দিনে হ্রদের পানির উচ্চতা কতটা কমে আসে এবং রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় এর কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত