লালমনিরহাট সীমান্তে ৭৬ ভারতীয় শাড়ি জব্দ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৩ বার
লালমনিরহাট সীমান্তে ৭৬ ভারতীয় শাড়ি জব্দ

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লালমনিরহাট সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৭৬টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় শাড়ি পাচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব শাড়ি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় চোরাকারবারিরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

জব্দ করা শাড়িগুলোর সিজার মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)। এ ঘটনায় চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও টহল জোরদারের কথাও জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনন্তপুর বিওপির টহলদল ভারতীয় শাড়ি পাচারের একটি প্রচেষ্টা সম্পর্কে তথ্য পায়। গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, একটি চোরাকারবারি চক্র সীমান্তপথ ব্যবহার করে ভারতীয় শাড়ি বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে।

তথ্য পাওয়ার পর অনন্তপুর বিওপির আওতাধীন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। এর ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বালাবাড়ী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিজিবির একটি টহলদল।

রাতের নীরব পরিবেশে পরিচালিত ওই অভিযানের একপর্যায়ে টহলদলের সদস্যরা কয়েকজন সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ভারতীয় সীমান্তের দিক থেকে আসতে দেখতে পান। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা তাদের ওপর নজর রাখেন। পরে তাদের ধাওয়া করা হলে সঙ্গে থাকা মালামাল ফেলে তারা দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়।

চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায় বিজিবি। এ সময় সেখানে ফেলে যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়। তল্লাশিতে মোট ৭৬টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি পাওয়া যায়। পরে নিয়ম অনুযায়ী এসব শাড়ি জব্দ করা হয়।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়িগুলোর সিজার মূল্য ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এসব শাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা মালামাল ফেলে ভারতের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত চোরাচালানকারীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের ক্ষেত্রে সাধারণত পাচারকারীরা বিভিন্ন ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এ ঘটনায়ও রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তপথে ভারতীয় শাড়ি পার করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযানের বিবরণ থেকে জানা যায়। কিন্তু গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগে থেকেই সতর্ক থাকায় বিজিবির টহলদল ঘটনাটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সীমান্তে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চোরাচালানের মাধ্যমে দেশের বাজারে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করতে সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক চলাচল ও সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা শাড়ির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

তিনি জানান, সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধেও এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ সীমান্তপথে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো সক্রিয় থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং চোরাচালানকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রমের মধ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে ৭৬টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি উদ্ধারের ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য পাচারের চেষ্টা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

তবে এ ধরনের ঘটনায় শুধু পণ্য জব্দ করাই নয়, এর পেছনে থাকা চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জব্দ হওয়া শাড়িগুলো কোথা থেকে এসেছে, কারা এগুলো বহনের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং সীমান্তের কোন পথ ব্যবহার করে পণ্য পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার মাধ্যমে পুরো চক্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

বিজিবি জানিয়েছে, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালানের পথ বন্ধ করতে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

রাতের অভিযানে ৭৬টি ভারতীয় স্বর্ণকাতান শাড়ি জব্দ হওয়ার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। চোরাকারবারিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ শাড়ি উদ্ধার করতে পেরেছে বিজিবি। এখন এসব পণ্যের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সীমান্তপথে এ ধরনের চোরাচালানের চেষ্টা প্রতিহত করাই সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত