২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ বার
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৭ সালের পবিত্র হজ পালনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিবন্ধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ফলে হজ পালনের ইচ্ছা থাকা ব্যক্তিদের সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম, নির্ধারিত সময়সীমা এবং পরবর্তী প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করা না হলে পরবর্তী সময়ে সুযোগ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। তাই হজযাত্রী, হজ এজেন্সি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসহ হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে।

আগামী বছরের হজে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সৌদি সরকারের নির্ধারিত হজ কোটা অনুযায়ী এই সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর প্রকৃত নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় গত ২৭ জুলাই। শুরু হওয়ার পর থেকে হজে যাওয়ার প্রত্যাশী ব্যক্তিরা সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। এবারও হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ নিবন্ধনের পর হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর জন্য একাধিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। এসব কার্যক্রমের সময়সূচি ঠিক রাখতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অর্থাৎ নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই বাংলাদেশ থেকে কতজন হজযাত্রী চূড়ান্তভাবে হজ পালনে সৌদি আরব যাবেন, সে বিষয়ে একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে। এরপর সেই সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

হজ পালনের জন্য নিবন্ধনের বিষয়টি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হজযাত্রীদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় প্রত্যাশা, পারিবারিক প্রস্তুতি এবং আর্থিক পরিকল্পনা। অনেকের জন্য জীবনে একবার হজ পালনের সুযোগ পাওয়া একটি বড় আকাঙ্ক্ষা। ফলে নিবন্ধনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে কোনো কারণে সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অর্থনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নিবন্ধন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা নির্ধারণের পর শুরু হবে হজ ব্যবস্থাপনার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণ এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম। হজযাত্রীদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার পাশাপাশি তাদের হজের নিয়ম-কানুন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।

হজের মতো বড় একটি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় আয়োজনের ক্ষেত্রে সময়মতো প্রস্তুতি সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইবাদত করেন। তাদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার, চিকিৎসা, পরিবহন এবং ধর্মীয় কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করতে হয়। নিবন্ধনের চূড়ান্ত সংখ্যা জানা গেলে এসব ব্যবস্থাপনা আরও সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়।

বিশেষ করে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যগত প্রস্তুতি ও ভিসা প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সময়মতো তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত তালিকার ভিত্তিতে এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তাই নিবন্ধনের সময়সীমা অতিক্রম করলে পুরো হজ ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সময়সীমার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোকেও নিবন্ধন কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন রাখা এবং পরবর্তী কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হজযাত্রার প্রস্তুতিতে সময়সীমার বিষয়টি তাই এবার বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২৪ সেপ্টেম্বরের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না—মন্ত্রণালয়ের এমন অবস্থানের কারণে যারা এখনো নিবন্ধন সম্পন্ন করেননি, তাদের জন্য হাতে থাকা সময়টুকু গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পবিত্র হজ পালনের সুযোগ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের যথাসময়ে নিবন্ধন শেষ করার মাধ্যমে পরবর্তী প্রস্তুতির ধাপগুলো নির্বিঘ্ন রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

২০২৭ সালের হজকে সামনে রেখে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের প্রস্তুতি ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত হবে। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা নির্ধারণ, সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং স্বাস্থ্য, ভিসা ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। সব প্রস্তুতি যথাসময়ে সম্পন্ন হলে প্রত্যাশিত হজযাত্রীরা আগামী বছরের পবিত্র হজ পালনের জন্য নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত