চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন-ইউনাইটেডের গোল উৎসব

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন-ইউনাইটেডের গোল উৎসব

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে দারুণ সূচনা করেছে বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুই জায়ান্টের মাঠে দেখা গেছে গোলের ঝড়। প্রথমার্ধে গোলের দেখা না পেলেও বিরতির পর দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবলে বোডো/গ্লিম্টকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৪-০ গোলে হারিয়েছে নবাগত সাবাহ এফকেকে।

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করে বায়ার্ন। আক্রমণের পর আক্রমণ সাজালেও প্রথম ৪৫ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পাচ্ছিল না ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থাকায় স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলেও প্রথমার্ধে তাই কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই বিরতিতে যেতে হয় জার্মান ক্লাবটিকে।

তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর যেন অন্য এক বায়ার্নকে দেখা যায়। বিরতির পর মাঠে ফিরেই দ্রুত আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। হ্যারি কেইনের নেওয়া একটি শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে সামনে চলে আসে জামাল মুসিয়ালার কাছে। সুযোগ বুঝে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান জার্মান মিডফিল্ডার। এতে এগিয়ে যায় বায়ার্ন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

গোল পাওয়ার পর আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় বায়ার্ন। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেইন। মাইকেল ওলিসের নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তাঁর এই গোলের পর বোডো/গ্লিম্টের জন্য ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বায়ার্ন তখন একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রাখতে থাকে।

ম্যাচের ৭৭ মিনিটে বায়ার্নের তৃতীয় গোল আসে আলফনসো ডেভিসের পা থেকে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান এই ডিফেন্ডার। গোলটি শুধু ব্যবধানই বাড়ায়নি, বায়ার্নের আক্রমণাত্মক ফুটবলের আধিপত্যও স্পষ্ট করে দেয়। তিন গোলের লিড পাওয়ার পরও থামেনি স্বাগতিকরা।

এর মাত্র ছয় মিনিট পর আবারও গোলের উৎসব শুরু হয় অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়। কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে গতিময় শটে বায়ার্নের চতুর্থ গোলটি করেন মাইকেল ওলিসে। বোডো/গ্লিম্ট তখন পুরোপুরি চাপে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় ৮৭ মিনিটে। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সফরকারী দলের ওডিন বিয়োরটাফটকে। ফলে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দল হয়ে পড়ে বোডো/গ্লিম্ট।

সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পর বায়ার্নের আক্রমণ ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ওলিসে। তাঁর গোলেই বায়ার্নের জয় পায় ৫-০ ব্যবধানের বড় রূপ। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় বড় জয়ের আনন্দে। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটে পাঁচ গোল করে বায়ার্ন বুঝিয়ে দিয়েছে, সুযোগ তৈরি হলে ম্যাচের গতি কীভাবে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হয়।

অন্যদিকে ওল্ড ট্রাফোর্ডেও ছিল উৎসবের আবহ। দীর্ঘ দুই মৌসুম পর চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিজেদের সমর্থকদের সামনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। নবাগত সাবাহ এফকের বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। বল দখলে ৫৮ শতাংশ আধিপত্যের পাশাপাশি লক্ষ্যে ১০টি শট নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট করে ইউনাইটেড।

ম্যাচের ২৭ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় রেড ডেভিলরা। প্যাট্রিক ডরগুর দেওয়া ক্রস থেকে পা ছুঁইয়ে বল জালে পাঠান ম্যাথিউস কুনহা। তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। গোল পাওয়ার পরও আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকে ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে তারা প্রতিপক্ষের রক্ষণে ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে।

বিরতির আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও বেঞ্জামিন সেসকোর গোলে প্রথমার্ধেই ব্যবধান ৩-০ করে ফেলে ইংলিশ ক্লাবটি। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচের ফলাফল অনেকটাই নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের গতি কমায়নি ক্যারিকের দল। সাবাহ এফকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ইউনাইটেডের চাপ সামলাতে পারেনি। ৬৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চতুর্থ গোলটি করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। এই গোলের পর ম্যাচের জয় নিয়ে আর কোনো সংশয় থাকেনি।

শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়েই চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দীর্ঘ দুই মৌসুম পর ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় ফিরে এমন জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

বায়ার্ন মিউনিখ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয় শুধু তিন পয়েন্ট পাওয়ার হিসাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং নতুন মৌসুমের শুরুতেই দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সামর্থ্যেরও জানান দিয়েছে। বায়ার্ন প্রথমার্ধের হতাশা কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ গোল করেছে, আর ইউনাইটেড দীর্ঘ বিরতির পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরে চার গোলের জয় পেয়েছে। দুই ম্যাচেই আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় শুরুটা ভালো হওয়া প্রতিটি দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রুপ বা লিগ পর্বের শুরুতেই বড় জয় পেলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হয়। বায়ার্ন ও ইউনাইটেডের এই গোলবন্যার রাত তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, নতুন মৌসুমের সম্ভাবনারও একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে থাকল।

ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই এখনো দীর্ঘ পথের। সামনে আরও কঠিন প্রতিপক্ষ, আরও বড় পরীক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অপেক্ষা করছে দুই দলের জন্য। তবে প্রথম ম্যাচেই বায়ার্নের পাঁচ গোল এবং ইউনাইটেডের চার গোলের জয় তাদের সমর্থকদের মনে নিঃসন্দেহে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মৌসুম যত এগোবে, এই দুই জায়ান্ট সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত