গোলের পরই চোট, ফ্রান্স দল থেকে ছিটকে এমবাপ্পে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
গোলের পরই চোট, ফ্রান্স দল থেকে ছিটকে এমবাপ্পে

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্রান্সের নতুন কোচ জিনেদিন জিদানের অধীনে প্রথম ম্যাচেই জয় এনে দিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ফরাসি শিবিরে। তুরস্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে জয়সূচক গোল করার কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁ হাঁটুর চোটে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ফ্রান্সের অধিনায়ককে। পরে তাঁর চোটের কারণে জাতীয় দলের চলমান ক্যাম্পের বাকি ম্যাচগুলো থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পের গোলটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে। মাইকেল ওলিসের কাছ থেকে পাওয়া পাস নিচু শটে জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন তিনি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অধিনায়কের এমন গোল ফরাসি সমর্থকদের জন্য ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। একই সঙ্গে নতুন কোচ জিদানের অধীনে দলের পথচলার শুরুটাও জয় দিয়ে উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি হয়।

কিন্তু গোল করার কয়েক মুহূর্ত পরই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। বাঁ হাঁটুতে হাত দিয়ে তাঁকে ব্যথায় কাতরাতে দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি আবার মাঠে ফেরার চেষ্টা করেন। তবে বেশিক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর আবার মাঠে পড়ে গেলে শেষ পর্যন্ত তাঁকে তুলে নেওয়া হয়।

চোটের ঘটনাটি ছিল কিছুটা অস্বাভাবিক। প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষ, ধাক্কা কিংবা শক্ত কোনো ট্যাকলের পর এমবাপ্পে আহত হননি। শট নেওয়ার সময়ই তাঁর হাঁটুতে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জিদান। ফরাসি কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, শট নেওয়ার সময় এমবাপ্পের হাঁটু অতিরিক্ত প্রসারিত হয়ে যায়। এরপরই ব্যথা অনুভব করেন তিনি।

যদিও মাঠ ছাড়ার সময় এমবাপ্পে নিজে হেঁটেই বের হয়ে যান এবং কারও সহায়তার প্রয়োজন হয়নি, তবু চোটের ধরন নিয়ে ফ্রান্সের টিম ম্যানেজমেন্টে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ একজন খেলোয়াড়ের হাঁটুর চোটের প্রকৃতি ও গুরুতরতা কেবল মাঠের তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি দেখে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে তিনি কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে পারেন।

ম্যাচ শেষে ফরাসি টেলিভিশনকে দেওয়া বক্তব্যে জিদানও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি ভালো নয় এবং এমবাপ্পেকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার আনন্দের মধ্যেও দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজনের চোট তাঁর জন্য স্বস্তিদায়ক খবর হয়ে ওঠেনি।

ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন পরে জানায়, টেন্ডনের চোটে ভোগা এমবাপ্পে জাতীয় দলের চলমান ক্যাম্পের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নিতে পারবেন না। চিকিৎসা ও পরবর্তী পরীক্ষার জন্য তিনি মাদ্রিদে ফিরে যাবেন। সেখানে তাঁর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মেডিক্যাল টিম প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।

এমবাপ্পের চোট নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, বাঁ হাঁটুতে এর আগেও তাঁর সমস্যা হয়েছিল। গত মৌসুমে একই হাঁটুর সমস্যায় দুই দফায় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ফলে এবার নতুন করে একই হাঁটুতে ব্যথা দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হয়েছে ফরাসি দল ও তাঁর ক্লাব।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমবাপ্পের হাঁটুর বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত জানতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে চোটের প্রকৃতি, সম্ভাব্য বিশ্রামের সময় এবং পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চোটটি কতটা গুরুতর এবং তিনি কবে আবার অনুশীলনে ফিরতে পারবেন।

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চলতি মৌসুমে এমবাপ্পের পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। মৌসুমের শুরুতেই আট ম্যাচে আট গোল করেছেন তিনি। ক্লাবের আক্রমণভাগে তাঁর ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ফ্রান্স জাতীয় দলেও তিনি প্রধান আক্রমণভরসা। ফলে তাঁর সাময়িক অনুপস্থিতি শুধু জাতীয় দলের জন্য নয়, ক্লাবের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে ফ্রান্সের আরও কয়েকটি ম্যাচ রয়েছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুটি ম্যাচের পাশাপাশি ইতালির বিপক্ষেও একটি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে জিদানের দলের। এমবাপ্পে না থাকায় এসব ম্যাচে ফ্রান্সকে আক্রমণভাগে নতুন সমন্বয় করতে হবে। অধিনায়ক ও প্রধান গোলদাতার অনুপস্থিতিতে অন্য খেলোয়াড়দের ওপরও দায়িত্ব বাড়বে।

তবে এমবাপ্পের ক্ষেত্রে এখনই দীর্ঘমেয়াদি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হাঁটুর চোটের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গ অনেক সময় চূড়ান্ত অবস্থার সম্পূর্ণ চিত্র দেয় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই চিকিৎসকরা তাঁর পুনর্বাসন ও মাঠে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তাই আপাতত জাতীয় দলের বাকি ম্যাচে না খেলা নিশ্চিত হলেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সময় সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত ধারণা পাওয়া যায়নি।

এদিকে জিদানের জন্যও এমবাপ্পের চোট নতুন দায়িত্বের শুরুতে বড় একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচেই জয় পেলেও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারানোর কারণে পরবর্তী ম্যাচগুলোর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে তাঁকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে একাধিক ম্যাচ অল্প সময়ের ব্যবধানে হওয়ায় খেলোয়াড়দের ঘাটতি সামলানো কোচিং স্টাফের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এমবাপ্পের জন্য বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবেও হতাশার। গোল করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেওয়ার পরই তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। একজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের জন্য জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে কঠিন। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে যখন ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিকভাবে মাঠে থাকার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তখন চোটের কারণে হঠাৎ বিরতি তাঁর জন্যও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে চিকিৎসার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং সঠিক মূল্যায়ন। দ্রুত মাঠে ফেরার চেষ্টা করে চোটকে আরও জটিল করে তোলার ঝুঁকি এড়ানোই এখন অগ্রাধিকার। জিদানও জানিয়েছেন, এমবাপ্পেকে নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া হবে না। ফলে পরীক্ষার ফল ও চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তুরস্কের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয় তাই একদিকে নতুন কোচের যুগের সূচনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকলেও, অন্যদিকে এমবাপ্পের চোটের কারণে ম্যাচটির পর ফরাসি শিবিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। জয়সূচক গোলের নায়কই যখন কিছুক্ষণ পর মাঠের বাইরে চলে যান, তখন আনন্দের সঙ্গে দুশ্চিন্তাও মিশে যায়। এখন ফ্রান্স, রিয়াল মাদ্রিদ এবং এমবাপ্পের ভক্তদের নজর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষার ফলের দিকে। সেই ফলই নির্ধারণ করবে এই চোট সাময়িক বিরতি নাকি আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে রাখবে ফরাসি তারকাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত