বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্মে কঠোর ব্যবস্থা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার
বিএনপির নাম ব্যবহার করে অপকর্মে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনীতির পরিচয়কে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তাকে দলের প্রকৃত কর্মী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। একই সঙ্গে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে পুরো দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার’ প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সমাবেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রকৃত বিএনপি কর্মী অপরাধী হতে পারেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা সন্ত্রাসে যুক্ত হলে তাকে বিএনপির কর্মী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও ব্যক্তিগত অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা থাকলে তা রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে—এমন অবস্থানেরই প্রতিফলন দেখা যায় তার বক্তব্যে।

নিজেদের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দলের নেতাকর্মীদের আচরণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নয়াপল্টনের ওই সমাবেশে শুধু দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নয়, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়ও আলোচনায় আসে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো পরিস্থিতিতে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান এবং মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। একজন শ্রমিকের আয় নির্ভর করে কর্মক্ষেত্র সচল থাকা, ব্যবসা-বাণিজ্য চালু থাকা এবং নিয়মিত উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রমের ওপর। কোনো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ থাকে না; স্থানীয় ব্যবসা, পরিবহন, শ্রমবাজার এবং দৈনন্দিন আয়ের ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। সমাবেশে নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যে এই বাস্তবতার কথাই গুরুত্ব পেয়েছে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকও চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে দলের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, যারা চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিএনপির লোক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। দলের কেউ এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালেও তাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে তিনি বক্তব্য দেন।

আমিনুল হকের বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথাও উঠে আসে। অর্থাৎ অপরাধের অভিযোগ বা কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়কে ছাড় দেওয়ার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার না করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের ক্ষেত্রে এমন অবস্থান দলীয় শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে সামনে আসে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির পটভূমিতে ছিল দেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার প্রতিবাদের বিষয়টি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক দলের স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতেও একই ধরনের বক্তব্য ও কর্মসূচি দেখা গেছে। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

নয়াপল্টনের সমাবেশে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এতে দলের সমন্বয়ক শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভুঁইয়া এবং সদস্যসচিব বদরুল আলম সবুজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এ সমাবেশ থেকে উঠে আসা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো—দলের নাম, প্রতীক বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ না দেওয়া। নজরুল ইসলাম খান ও আমিনুল হকের বক্তব্যে একই বিষয়ে প্রায় অভিন্ন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। তবে বাস্তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে আইনের আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া হলে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কও নিরপেক্ষভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় দলগুলোর নেতাকর্মীদের আচরণ সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ একটি দলের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ড অনেক সময় পুরো সংগঠন সম্পর্কে জনমনে ধারণা তৈরিতে ভূমিকা রাখে। সেই বাস্তবতায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপকর্ম বরদাশত না করার যে বক্তব্য দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কাছ থেকে এসেছে, তা মূলত দলীয় পরিচয় ও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরির আহ্বান হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

নজরুল ইসলাম খানের বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল, রাজনৈতিক পরিচয় কখনো অপরাধের ঢাল হতে পারে না। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে নয়াপল্টনের এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, দলের পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান জানানোর একটি উপলক্ষ হিসেবেও সামনে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত