প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে ডান ঊরুতে অস্বস্তি অনুভব করার পর ভারতের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন রাফিনিয়া। ব্রাজিলের ফুটবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই উইঙ্গারকে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য এখন বার্সেলোনায় ফিরবেন তিনি। তবে ঠিক কতদিন তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
ব্রিসবেনে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় পায় ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধে রাফিনিয়া মাঠে ছিলেন। তবে ডান ঊরুতে অস্বস্তি অনুভব করায় বিরতির সময় তাঁকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এরপর চোটের বিষয়টি নিয়ে আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। ম্যাচ শেষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে রাফিনিয়াকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ব্রাজিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাফিনিয়ার চোট পাওয়া অংশে ইমেজিং পরীক্ষায় ছোট পেশির প্রদাহ বা এডেমা ধরা পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁকে আন্তর্জাতিক দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং চোট যাতে আরও গুরুতর না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া। তাঁর পরিবর্তে নতুন কোনো খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়নি ব্রাজিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিতে রাফিনিয়া অবশ্য উইঙ্গার হিসেবে নয়, সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে খেলেছিলেন। ম্যাচের একটি পর্যায়ে তিনি সতীর্থ রায়ানকে দিয়ে গোল করাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আক্রমণভাগে তাঁর বহুমুখী ভূমিকা ব্রাজিলের কৌশলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। ফলে ভারতের বিপক্ষে তাঁকে না পাওয়া ব্রাজিলের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার পর ব্রাজিল এখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে দুই দলের এই প্রীতি ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া সফরের পর ব্রাজিল দল উপমহাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এই ম্যাচে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে রাফিনিয়ার চোট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ বার্সেলোনায়। কারণ একই ধরনের চোটের ইতিহাস রয়েছে এই ব্রাজিলিয়ান তারকার। গত মৌসুমেও একাধিকবার হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে নতুন করে একই অঞ্চলে অস্বস্তি দেখা দেওয়ায় কাতালান ক্লাবটির জন্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের হয়ে উঠেছে।
গত মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন রাফিনিয়া। এর আগে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুতেও একই ধরনের সমস্যার কারণে প্রায় দুই মাস দলের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। সর্বশেষ জুলাইয়ে শেষ হওয়া বিশ্বকাপেও হালকা হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে প্রায় দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ফলে একই অঞ্চলে বারবার চোটের পুনরাবৃত্তি তাঁর বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাফিনিয়ার আগের চোটগুলোর কারণে ব্রাজিল ও বার্সেলোনার হয়ে উল্লেখযোগ্য সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। বিভিন্ন সময়ে মোট ১৫০ দিনেরও বেশি সময় খেলতে পারেননি তিনি। নতুন চোটটি কতটা গুরুতর, সেটি এখনো নিশ্চিত না হলেও আগের ইতিহাসের কারণে পুনর্বাসনের বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্সেলোনার জন্য সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মৌসুমে রাফিনিয়া দলের আক্রমণভাগে কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। এখন পর্যন্ত আট ম্যাচে ১৪ গোলের পাশাপাশি তিনটি গোল তৈরিতে অবদান রেখেছেন তিনি। এমন পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দলের আক্রমণভাগে তাঁর উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে তাঁকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও রাফিনিয়ার চোটের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, চোটের বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে ক্লাব। আন্তর্জাতিক বিরতিতে খেলোয়াড়েরা জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার সময় চোটে পড়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি সবসময়ই উদ্বেগ তৈরি করে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, রাফিনিয়ার দ্রুত সুস্থ হয়ে ফেরার ক্ষেত্রে আগামী ১০ অক্টোবর হেতাফের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচটি একটি সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের তারিখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং চোটের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়নের পরই তাঁর মাঠে ফেরার সময় নির্ধারিত হবে।
চোট দীর্ঘায়িত হলে বার্সেলোনার সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অক্টোবর মাসে দলটির সূচিতে গালাতাসারাই, রিয়াল বেতিস, পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এসব ম্যাচের আগে রাফিনিয়ার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে দলের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে বর্তমানে তাঁর অনুপস্থিতির সময়সীমা নিশ্চিত না হওয়ায় এসব ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ব্রাজিলের ক্ষেত্রেও রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। আনচেলত্তির অধীনে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন হয়ে উঠেছেন। শুধু আক্রমণভাগে নয়, দলের নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বেড়েছে। মারকিনিওসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। পাশাপাশি ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সি পরার সঙ্গে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িত্বও পেয়েছেন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দলের ভারসাম্য ও আক্রমণ পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য মূলত প্রস্তুতিমূলক হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিটি ম্যাচই দল গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট সামনে রেখে কোচরা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন পজিশনে পরীক্ষা করেন, কৌশল যাচাই করেন এবং দলের বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করেন। রাফিনিয়ার অনুপস্থিতিতে অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্যও নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে বার্সেলোনার সমর্থকদের প্রধান আগ্রহ এখন রাফিনিয়ার চোটের প্রকৃত অবস্থা এবং তাঁর পুনর্বাসন কত দ্রুত এগোয়, তা নিয়ে। একই জায়গায় অতীতে একাধিকবার চোট পাওয়ার কারণে এবার অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হতে পারে। দ্রুত মাঠে ফেরার চেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফেরাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হলো, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে রাফিনিয়া খেলছেন না এবং চিকিৎসার জন্য বার্সেলোনায় ফিরছেন। তাঁর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। আগামী কয়েক দিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়াই পরিস্থিতির পরবর্তী চিত্র পরিষ্কার করবে। ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব শেষ করে এখন রাফিনিয়ার সামনে মূল লক্ষ্য দ্রুত ও নিরাপদভাবে সুস্থ হয়ে ক্লাব ফুটবলে ফিরতে প্রস্তুত হওয়া।