ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ বার
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম এবং নীতিমালা বাস্তবায়নে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২০২১ সালে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, কার্যকর তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এর বাস্তবায়ন প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে দ্রুত বাড়তে থাকা ইলেকট্রনিক বর্জ্যের নিরাপদ সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক ই-বর্জ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে টিআইবি ও ডব্লিউইইই সোসাইটি বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশাসন: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় তুলে ধরা হয়। সভায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এই খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় পড়ে থাকা বিপুলসংখ্যক অকেজো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কীভাবে নিরাপদে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।

আলোচনা সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে কী পরিমাণ ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে এবং সেগুলো কীভাবে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাত ও পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি রয়েছে। কোনো খাতে বর্জ্যের প্রকৃত পরিমাণ, উৎস এবং ব্যবস্থাপনার ধাপ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকলে সেখানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন। ই-বর্জ্যের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রিও বাড়ছে। পাশাপাশি পুরোনো, নষ্ট কিংবা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়া যন্ত্রপাতির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পণ্য ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেলে সেগুলো কোথায় জমা হচ্ছে, কীভাবে ভাঙা হচ্ছে এবং কোন অংশ পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে—তার সঠিক হিসাব থাকা জরুরি। কিন্তু নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি থাকলে বর্জ্যের প্রকৃত প্রবাহ শনাক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ই-বর্জ্য সাধারণ আবর্জনার মতো নয়। অনেক ইলেকট্রনিক পণ্যে সিসা, পারদসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ, রাসায়নিক উপাদান এবং ব্যাটারির মতো ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থাকতে পারে। এগুলো অনিরাপদভাবে ভাঙা, পোড়ানো বা খোলা জায়গায় ফেলে রাখলে মাটি, পানি ও বাতাস দূষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য সংগ্রহ ও যন্ত্রাংশ আলাদা করার কাজে যুক্ত শ্রমিকেরা যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী ও প্রশিক্ষণ না পেলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। শিশু ও আশপাশের বাসিন্দারাও দূষণের পরোক্ষ প্রভাবের শিকার হতে পারেন।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা তাই কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, শ্রমিকের নিরাপত্তা, নগর ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের সঙ্গেও সম্পর্কিত। পরিত্যক্ত যন্ত্রপাতির অনেক অংশে পুনরুদ্ধারযোগ্য ধাতু, প্লাস্টিক ও অন্যান্য উপাদান থাকে। পরিকল্পিতভাবে এসব উপাদান সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে একদিকে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদ অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়। বিপরীতে, যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে এসব সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দূষণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

২০২১ সালে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের পরও বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে টিআইবির বক্তব্য এ খাতের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। একটি বিধিমালা কার্যকর করতে শুধু নিয়ম তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা, নিয়মিত পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ, আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন। এসব ব্যবস্থার কোনো একটিতে ঘাটতি থাকলে নীতিমালার লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

টিআইবির অভিযোগে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কোন পর্যায়ে কী ধরনের অনিয়ম ঘটেছে, কারা এতে জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে—তা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। অভিযোগের পাশাপাশি তদন্ত, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি বিধিমালা বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম ও অগ্রগতি জনসমক্ষে তুলে ধরাও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আলোচনা সভায় বর্তমান সরকারের প্রতিটি জেলায় ই-বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের অঙ্গীকারের বিষয়টিও উঠে আসে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ বাড়তে পারে। তবে শুধু কারখানা স্থাপন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কারখানাগুলো পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, বর্জ্য কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের পর অবশিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ কীভাবে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে—এসব বিষয়েও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

জেলাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, আমদানিকারক, উৎপাদক, বিক্রেতা, মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য সংগ্রহকারীদের মধ্যে সমন্বয় অপরিহার্য। ইলেকট্রনিক পণ্য ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হলে গ্রাহকের কাছ থেকে তা নিরাপদভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা না থাকলে অনেক যন্ত্রপাতি সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই সংগ্রহকেন্দ্র, অনুমোদিত প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপাদান ফেরত নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনা সভায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এসব ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পণ্যের বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর সঙ্গে যুক্ত যন্ত্রপাতির জীবনচক্র বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক উপাদান ব্যবহারের একপর্যায়ে অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। সেগুলো নিরাপদে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার পরিকল্পনা শুরু থেকেই করা না হলে ভবিষ্যতে নতুন ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চাপ তৈরি হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপাদক ও আমদানিকারকদের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য বাজারজাত করার পর সেটি ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হলে কীভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে বর্জ্যের চাপ কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্য পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য জমা দেওয়ার সহজ সুযোগ তৈরি করা দরকার। সচেতনতামূলক প্রচার, অনুমোদিত সংগ্রহকেন্দ্রের তথ্য প্রকাশ এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে পারে।

আলোচনা সভায় আরেকটি উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, দেশের ৪১টি জেলায় প্রায় দেড় লাখ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বর্তমানে অকেজো বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব যন্ত্রের ব্যবস্থাপনা কিংবা পুনর্ব্যবহারে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বিপুলসংখ্যক ইভিএম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকলে সেগুলোর সংরক্ষণ, হিসাবরক্ষণ, নিরাপত্তা এবং শেষ পর্যন্ত পরিবেশসম্মত নিষ্পত্তির প্রশ্ন সামনে আসে।

ইভিএমের মতো প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সার্কিট, ধাতব অংশ, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। ফলে সেগুলো সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া কিংবা অনিরাপদভাবে ভেঙে ফেলা সমীচীন নয়। প্রথমে যন্ত্রগুলোর বর্তমান অবস্থা, পুনরায় ব্যবহারযোগ্য অংশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানের তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসারে মেরামত, পুনর্ব্যবহার, উপাদান পুনরুদ্ধার অথবা নিরাপদ নিষ্পত্তির পথ নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কতগুলো যন্ত্র পুনরায় ব্যবহারযোগ্য এবং কতগুলো সম্পূর্ণ অকার্যকর, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা কঠিন হবে।

সরকারি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ হিসাব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কেন এত বিপুলসংখ্যক ইভিএম অকেজো অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোর বর্তমান মালিকানা ও সংরক্ষণের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের হাতে এবং নিষ্পত্তির জন্য কী পরিকল্পনা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর জনসমক্ষে তুলে ধরা হলে পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে এসব যন্ত্রের ক্রয়, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও শেষ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নথিপত্র সংরক্ষণ সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার মূল্যায়নে সহায়ক হতে পারে।

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি আনতে প্রথমেই দেশের বর্জ্যের পরিমাণ, উৎস, ধরন ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা প্রয়োজন। এরপর বিধিমালার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশগত পরিদর্শন এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের পাশাপাশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বর্জ্য সংগ্রহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার যত বাড়বে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাও তত বাড়বে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদের অপচয় আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে সঠিক তথ্য, স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীল শিল্পব্যবস্থা এবং কার্যকর সরকারি তদারকির সমন্বয় ঘটানো গেলে ই-বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হতে পারে। টিআইবির উত্থাপিত অভিযোগ ও উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বিধিমালার বাস্তব প্রয়োগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং নিরাপদ ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com