আজ যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
আজ যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের কয়েকটি এলাকায় আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বিদ্যুৎ লাইনের কাজ এবং সঞ্চালন লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার কারণে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কোথাও কোথাও এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় পাঁচ থেকে নয় ঘণ্টা হলেও নাটোরের বড়াইগ্রামের কয়েকটি এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বিতরণ সংস্থাগুলো আগেই গ্রাহকদের অবহিত করেছে। বিদ্যুৎ লাইনে কাজ করার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে এসব কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় আজ সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারে নতুন ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের তার সংযোগ ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। অর্থাৎ এই সময়টিতে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের।

এই সময় কালিকাপুর, ফজলিতলা, আহম্মেদপুর বাজার, পার আহম্মেদপুর, কায়েমকোলা, খৌদ্দকাচুটিয়া, কুমরুল, বৃ-কাচুটিয়া, ভবানীপুর, রামাগাড়ি, কামারদহ, আটঘরিয়া, সুইচগেট, হাট গোবিন্দপুর ও শেখপাড়াসহ আশপাশের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজে প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষ করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি পানি তোলা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ছোট ব্যবসা পরিচালনা ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের এই বিভ্রাটের কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও আজ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) জানিয়েছে, শিবগঞ্জ ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে থাকা গাছের ডালপালা কাটার কাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টানা নয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।

বিদ্যুৎ লাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা অনেক সময় ঝড়-বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে লাইনের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এসব গাছের ডালপালা ছাঁটাই করা প্রয়োজন হয়। শিবগঞ্জের আজকের কাজটিও সেই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ।

সিলেট শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও আজ দুই ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে, ৩৩/১১ কেভি লাকাতুরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন ফিডারে জরুরি কাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।

এ সময় কাকুর্যাপাড়, এয়ারপোর্ট থানা, বাইশটিলা, ওসমানী বিমানবন্দর এক্সপ্রেস, ধোপাগুলা, বনশ্রী, বাদামবাগিচার আংশিক এলাকা, পাহাড়িকা, বড় বাজার ও লাকাতুরা স্টেডিয়াম ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না। একই সময় লাকাতুরা বাজার, মুসলিমপাড়া, মালনীছড়া, বাদামবাগিচা, খাসদবীর প্রাথমিক স্কুল গলি, রূপসা আবাসিক এলাকা, ফরিদাবাদ, সিলভার সিটি, কেওয়াছড়া, হিলুয়াছড়া চা-বাগান, ধোপাগুল, সাহেবের বাজার ও সালুটিকর ঘাটসহ আশপাশের এলাকাও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় থাকবে।

সিলেটের আম্বরখানা এলাকাতেও আজ আলাদা সময়সূচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। আম্বরখানাস্থ ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের আওতাধীন ১১ কেভি আইজিডি ওভারহেড ফিডারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কাজের জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এই সময় আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলা বাগান, প্রভাতী, পূর্ব পীরমহল্লা, হাউজিং এস্টেট, ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকা ও আশপাশের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত থাকবেন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে আগে থেকেই মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চার্জ করে রাখার পাশাপাশি জরুরি কাজে বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দীর্ঘ সময়ের বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানির ব্যবস্থা, অনলাইন কাজ এবং সংরক্ষিত খাবার বা প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। অর্থাৎ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা সময়কে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হলেও কাজ দ্রুত শেষ হলে গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় কমতে পারে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজ শেষ করা জরুরি।

বিদ্যুৎ বিভাগের এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এসব কাজ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন লাইন সংযোগ, উপকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সঞ্চালন লাইনের আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণের মতো কাজ নিয়মিতভাবে করা হলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে। তাই আজ যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা রয়েছে, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের নির্ধারিত সময় বিবেচনায় রেখে দৈনন্দিন কাজ পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com