সর্বশেষ :
মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

বিজিএমইএ কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য কমিশনারেটের সঙ্গে বৈঠক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১১৯ বার
বিজিএমইএ কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য কমিশনারেটের সঙ্গে বৈঠক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের নীতি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়াগুলোকে সহজতর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। মঙ্গলবার সমিতির পরিচালক ফয়সাল সামাদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) কমিশনার মিয়া মো. আবু ওবায়দার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পোশাক শিল্পের জন্য কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়া দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করার জন্য তাদের কাছে অনুরোধ পেশ করেন। বৈঠকে অতিরিক্ত কমিশনার এদিপ বিল্লা এবং ডেপুটি কমিশনার এইচ এম আহসানুল কবীরও উপস্থিত ছিলেন।

এই বৈঠকটি গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার (দক্ষিণ) কমিশনার মোহাম্মদ হাসমত আলীর সঙ্গে সমিতির পূর্ববর্তী বৈঠকের ধারাবাহিকতা হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল ওই বৈঠকে উত্থাপিত সমস্যার সমাধান এবং নতুন নীতি সহায়তার প্রস্তাবগুলো কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করেন। বৈঠকে সমিতি প্রধান ফয়সাল সামাদ কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এই বৈঠকে হস্তান্তর করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পোশাক শিল্পে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দ্রুত এবং সহজ করার জন্য কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। বিশেষ করে শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। সমিতি আশা প্রকাশ করেছে, কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়া সহজ হলে দেশীয় পোশাক শিল্পের রপ্তানি খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

ফয়সাল সামাদ বৈঠকে উল্লেখ করেন, বার্ষিক নিরীক্ষা কার্যক্রম সহজ করা, সংশোধিত ইউডি বহির্ভূত ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, সিবিএমএস (CBMS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে বন্ড রেজিস্টার সংরক্ষণসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে সহজ ও কার্যকর করার জন্য কমিশনারেটের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাটিং তদারকির শর্ত আরোপ করা উচিত নয় এবং বন্ড লাইসেন্সে এইচ.এস. কোড সংযোজন প্রক্রিয়াকে সহজতর করার মাধ্যমে শিল্পের কার্যক্রমে বাধা কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা জোর দেন যে, কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার জটিলতা রপ্তানিকারকদের জন্য সময় ও সম্পদের অপচয় সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পোশাক রপ্তানিতে বিলম্ব হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমিতি আশা করছে, কমিশনারেট যদি প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও দ্রুততর করে, তবে দেশের পোশাক খাত আরও সক্ষম ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি দেশের প্রধান রপ্তানি খাত হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। প্রায় চার লক্ষাধিক রপ্তানিকর্মী এবং কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন এই শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। তাই কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার সহজীকরণ ও নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার সহজীকরণের পাশাপাশি বিজিএমইএ চাচ্ছে, কমিশনারেট শিল্পের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান এবং নীতিমূলক সহায়তা প্রদানে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক। এর ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনা আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে। সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিল্পের উন্নয়নে কমিশনারেটের সহযোগিতা অপরিহার্য এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় পোশাক খাতকে শক্তিশালী করবে।

বৈঠকে আরও আলোচনা করা হয়, বন্ড লাইসেন্স ও রেজিস্টার সংক্রান্ত সফটওয়্যার ব্যবহার, প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূরীকরণ এবং তদারকির মানদণ্ড আরও সুসংগত করা। বিজিএমইএ আশাবাদী যে, কাস্টমস কমিশনারেটের সঙ্গে সমন্বয় ও সহায়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রক্রিয়াগুলো আরো কার্যকর ও দ্রুততর হবে।

বিজিএমইএ এই পদক্ষেপকে পোশাক শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। এটি কেবল শিল্পীদের কাজের গতি বৃদ্ধি করবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও শক্তিশালী করবে। সমিতির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কমিশনারেটের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও নীতি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে।

ফয়সাল সামাদ বৈঠকে বলেন, “আমরা চাই না কোনো রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্বের শিকার হোক। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা এবং প্রক্রিয়াগুলো সহজ ও দ্রুত করা, যাতে পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা হয়।”

নিউইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বেলজিয়ামের রানিসহ শীর্ষ কূটনীতিক ও নেতৃবৃন্দের বৈঠক

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিজিএমইএ ও কাস্টমস কমিশনারেটের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক এবং প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সময়, শ্রম ও খরচ কমবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

পরিশেষে বলা যায়, কাস্টমস বন্ড প্রক্রিয়ার সহজীকরণ ও নীতি সহায়তা প্রদানের জন্য বিজিএমইএর এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল শিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত