সর্বশেষ :
মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

বিএসইসি নতুন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
বিএসইসিতে নতুন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা: পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অবশেষে নতুন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএসইসির পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র মো. আবুল কালাম।

বুধবার বিএসইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গত মঙ্গলবারই তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। বিএসইসির এই পদক্ষেপটি আসে এমন একটি সময়ে, যখন তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলোর জন্য তথ্য প্রদান ও আপিল কর্মকর্তার নিয়োগ করা বাধ্যতামূলক।

নিয়োগ সংক্রান্ত খবরের প্রেক্ষাপটে স্মরণীয় যে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর “বরখাস্তের চার মাস পরও তথ্যকর্মকর্তার দায়িত্বে” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল আমার দেশ পত্রিকার বাণিজ্য পাতায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেজাউল করিমসহ ২১ জন কর্মকর্তাকে গত ২৯ মে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু এর পরও রেজাউল করিমকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তথ্য কর্মকর্তার পদে বহাল রাখা হয়েছিল।

বিবেচনা করা হয় যে, এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি এবং দপ্তরের তথ্যপ্রদানের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি বিএসইসির নজরে আসে। এরপর সংস্থাটি দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং রেজাউল করিমকে তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মো. আবুল কালামকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়।

সেপ্টেম্বরের ২০ দিনে এসেছে ১৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, নতুন তথ্য কর্মকর্তার নিয়োগ শুধু নিয়মিত প্রশাসনিক প্রয়াস নয়, বরং সংস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই নিয়োগের মাধ্যমে সংস্থা নিশ্চিত করতে চায় যে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত তথ্য জনগণের জন্য আরও সহজলভ্য এবং সময়োপযোগীভাবে প্রদান করা হবে।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সরকারি সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তথ্য প্রদান ও আপিল কর্মকর্তার নিয়োগ করতে হয়। আইনটি নির্ধারণ করে যে, সাধারণ জনগণকে তাদের অধিকার সম্পর্কিত তথ্য সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত। বিএসইসি, যেহেতু দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, তাই এ ধরনের পদক্ষেপ তার জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আবুল কালামকে নতুন তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আগে সংস্থার অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তার অভিজ্ঞতা এবং বিএসইসির কার্যক্রম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান তাকে এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রমাণ করেছে।

নিয়োগের পর আবুল কালাম সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বলেন, “এই দায়িত্ব নেয়া আমার জন্য সম্মানজনক। তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সঙ্গে সংস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা আমার প্রধান লক্ষ্য। আমরা চেষ্টা করব যাতে সকল তথ্য সহজলভ্য ও সঠিক সময়ে জনগণের কাছে পৌঁছে।”

তবে, এই পদক্ষেপকে কিছু বিশ্লেষক দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক অস্পষ্টতা দূর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সাময়িক বরখাস্ত এবং তথাকথিত তথ্য কর্মকর্তা বহাল রাখার ঘটনা আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় পর্যায়ে সংস্থার প্রতিচ্ছবির জন্য ন্যূনতম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের জবাব দেয়া সম্ভব হয়েছে।

বিএসইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থা আগামীতেও তথ্য প্রদান প্রক্রিয়ার মান উন্নত করতে এবং সময়মতো সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী থাকবে। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, “তথ্য অধিকার আইন শুধু কাগজে থাকলেই হবে না, বাস্তব প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের স্বচ্ছতা এবং নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা নতুন তথ্য কর্মকর্তার নিয়োগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, পুঁজিবাজারের তথ্য সরবরাহ স্বচ্ছ হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও স্থিতিশীল হবে।

এছাড়াও, সংস্থার অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ থেকে যে শিক্ষা পাওয়া যায় তা হলো যে, নিয়মিত প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং দায়িত্বশীল নিয়োগ দেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিএসইসির নতুন তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি মূলত সংস্থার তথ্য প্রকাশ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর এবং কার্যকর করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেবেন।

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী তথ্য প্রদান ও আপিল কর্মকর্তার ভূমিকা দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সংস্থা জনগণের কাছে তার কার্যক্রমের বিষয়ে পূর্ণরূপে জবাবদিহি করতে সক্ষম হয়।

বিগত কয়েক মাসের ঘটনা থেকে দেখা যায়, তথ্য কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকলেও কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা না থাকলে তথ্য প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুনামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নতুন নিয়োগ কার্যকরভাবে সংস্থার সুনাম ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।

সংক্ষেপে বলা যায়, বিএসইসির এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, এবং নাগরিকদের তথ্য অধিকার রক্ষা করার প্রচেষ্টা হিসাবে বিবেচিত হবে। আবুল কালামের নিয়োগ এই বার্তা দিচ্ছে যে, সংস্থা ভবিষ্যতে তথ্য প্রদান ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জবাবদিহিমূলক ও প্রমাণিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত