সর্বশেষ :
মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলারের নন-কনসেশনাল ঋণ অনুমোদন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার
ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলারের নন-কনসেশনাল ঋণ অনুমোদন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়ছে

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫। নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিদেশি ঋণের ভূমিকা দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহজ শর্তের বা কনসেশনাল ঋণের প্রবাহ কমে যাওয়ায় দেশকে ক্রমেই কঠিন শর্তের ঋণের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এ প্রবণতার সাম্প্রতিক প্রতিফলন দেখা গেছে গত বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) স্থায়ী কমিটির সভায়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ছয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের বেশি নন-কনসেশনাল ঋণ নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সভায় আলোচনার মূল বিষয় ছিল কীভাবে এই নন-কনসেশনাল ঋণগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী ও কম সুদে আনা সম্ভব। কারণ, বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইতিমধ্যে কনসেশনাল ঋণের সুবিধা সীমিত করে দিয়েছে, যা মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সহজ শর্তের ঋণের সীমিততা বাংলাদেশকে অনিবার্যভাবে কঠিন শর্তের ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ফলে সুদ ও বাজেট চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচটি জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইএসডিবি) দেবে দুই হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা প্রায় ২৩৩ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। এই ঋণ মূলত কঠিন শর্তে, এবং সেতুগুলো নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় নির্মাণ করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, দুর্গাপুরের মহাদেব, গণেশ্বরী-৩, নিতল ও সোমেশ্বরী-২ সেতু নির্মাণের মাধ্যমে শুধু সড়ক যোগাযোগ উন্নত হবে না, বরং এলাকার কৌশলগত সম্পদ যেমন বিজয়পুর সাদা মাটির বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথও সুগম হবে। ২৫ লাখ টনের বেশি উচ্চমানের খনিজ সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নতুন শিল্প ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে।

ঢাকার পানি সরবরাহ ও শোধন ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যও বড় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার দুটি প্রকল্পের মধ্যে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার (ফেজ-৩) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি, যার জন্য ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি) দিচ্ছে ১১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা ঋণ। একইভাবে, ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পেও ইআইবি আরো ৯০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, যা পুরোপুরি নন-কনসেশনাল। এই ঋণগুলো কঠিন শর্তে হওয়ায় ভবিষ্যতে পানির খরচে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

রেল খাতেও বড় অঙ্কের নন-কনসেশনাল ঋণ আসছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের প্রকল্পে এডিবি দিচ্ছে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। পুরো ঋণই কঠিন শর্তে, যা দীর্ঘমেয়াদে রেলওয়ের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। খুলনায় পানি সরবরাহের দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পে ১৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ এসেছে, যার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ কঠিন শর্তে, এবং উত্তরাঞ্চলের নেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে এডিবি দিচ্ছে আরো ৯১ মিলিয়ন ডলার।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কনসেশনাল ঋণের সীমিততা ও নন-কনসেশনাল ঋণের বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য সতর্ক সংকেত। সরকার যতদিন সম্ভব সহজ শর্তের ঋণকে প্রাধান্য দিয়ে আসছিল। কিন্তু এই সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায়, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম বজায় রাখতে সরকারকে বাধ্য হয়ে কঠিন শর্তের ঋণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় ও সুদ পরিশোধের চাপ বেড়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাজেট ঘাটতি তীব্র করতে পারে।

ইআরডির এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, নন-কনসেশনাল ঋণ নেওয়ায় ঝুঁকি থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখার জন্য বিকল্প নেই। তিনি জানান, “আমরা কৌশলগতভাবে ঋণের শর্ত ও সুদ কমানোর চেষ্টা করছি, তবে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কনসেশনাল ঋণ সীমিত হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।”

অর্থাৎ, ছয়টি প্রধান প্রকল্পের জন্য এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কঠিন শর্তের ঋণ দেশের বাজেট ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী বছরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও ঋণ পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত