সর্বশেষ :
মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮%: বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮১ বার
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮%: বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ অক্টোবর সংস্করণে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক সামগ্রিক চিত্র, চলমান চ্যালেঞ্জ এবং নীতিমূলক সুপারিশগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্যকারী বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্য পেম। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক অবস্থার সারমর্ম তুলে ধরে বলেন, “অর্থনীতি সাম্প্রতিক সময়ে দৃঢ়তা দেখাচ্ছে, তবে টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সাহসী সংস্কার ও দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বেসরকারি বিনিয়োগ এখনও কম। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যবসায় খরচের বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশে নানা জটিলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, বর্তমানে অর্থনীতিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিনিয়োগে ভাটা, কর্মসংস্থানে ঘাটতি, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক খাত, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং দুর্বল রাজস্ব আদায়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এখনও তা অনেক বেশি। গত আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এ ছাড়া দারিদ্র্যও বেড়েছে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের জন্য বিশ্বব্যাংক নীতি নির্ধারকদের কাছে সুপারিশ করেছে যেন তারা অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

জ্য পেম আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং জনগণের জীবনের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, জ্বালানি ভর্তুকি কমানো, নগরায়ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দিতে হবে।” তিনি মনে করান, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও প্রতিটি নীতিমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রার অর্জন বাড়ছে, এবং সামান্য হলেও অবকাঠামো বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এই অগ্রগতি স্থায়ী করার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় নীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়।

চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পূর্বাভাসিত হলেও এটি আগের কয়েক বছরে দেখা প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বৃদ্ধিকে চিহ্নিত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি বাংলাদেশ দ্রুত ও কার্যকরী অর্থনৈতিক সংস্কার প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশেষভাবে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে কর্মসংস্থান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের যুবসমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। জ্য পেম উল্লেখ করেছেন, “উন্নত নীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করলে দেশীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের ধারা বৃদ্ধি পাবে, যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

বিশ্বব্যাংক আরও সতর্ক করেছে যে, দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং উচ্চ খেলাপি ঋণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই দেশের কর নীতি আরও কার্যকর করা, ব্যাংক খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা এবং বিনিয়োগ পরিবেশে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা জরুরি। এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও প্রতিরোধী ও টেকসই হবে।

এছাড়া, বিশ্বব্যাংক সুপারিশ করেছে যে বাংলাদেশকে নগরায়ণ পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। শিল্প ও সেবা খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির বহুমুখী উন্নয়ন সম্ভব হবে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং জ্বালানি খাতে সমন্বয় এবং খরচ নিয়ন্ত্রণ দেশীয় উৎপাদন খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশ হলেও, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দেশকে ত্বরিত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, ব্যাংক খাতের শক্তিশালীকরণ, কর নীতি সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই সবই দেশের টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

সংক্ষেপে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি সাম্প্রতিক সময়ে দৃঢ়তা দেখাচ্ছে, তবে স্থিতিশীল এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা দূর করা, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানো এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৮ শতাংশ, যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সূচক হলেও বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমূলক পদক্ষেপের ওপর তার নির্ভরশীলতা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত