প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ লেবার পার্টি সরকারের সাম্প্রতিক ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনগণবিরোধী হিসেবে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার মধ্যে আরও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো সরকারের অর্থনৈতিক নীতির চরম ব্যর্থতার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ‘সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ৬ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে আরও চরম ভোগান্তিতে ফেলবে। সরকারের অদক্ষতা, সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং বাজার নিয়ন্ত্রণহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’
ডা. ইরান আরও উল্লেখ করেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আগেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে বাজার এখন সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি। সরকারের কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই, বরং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীচক্রের সঙ্গে অঘোষিত আঁতাত চলছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়, তাদের কাছে জনগণের ভোগান্তি বা ন্যায়বিচারের কোনো মূল্য নেই।
চেয়ারম্যানের মতে, ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে বারবার দাম বৃদ্ধি করা হলো সাধারণ মানুষের প্রতি নির্মম অবিচার। সরকার যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে তারা জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে পারছে না।’
ডা. ইরান অবিলম্বে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, লেবার পার্টি জনগণের পাশে রয়েছে এবং এ ধরনের জনবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ন্যায্য দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দিতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সিন্ডিকেট ও বাজার নিয়ন্ত্রণহীনতার যুক্তি মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, সরকারের নীতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু ত্রুটি বিদ্যমান। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি ঘরে ঘরে পৌঁছে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে চাপে ফেলবে, যা আগামী মাসগুলোতে সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্ববর্তী উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে কাজ করেনি। ব্যবসায়ীদের একাধিকার এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় লেবার পার্টির প্রতিবাদ শুধু রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডা. ইরান বলেন, ‘সরকার যদি জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ও সঠিক নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানানো রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। আমরা এই দায়িত্ব পালন করব।’
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের নীতি নির্ধারণে বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা জোরদার করা না হলে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের উপর চাপ আরও বৃদ্ধি করবে। সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণ, নীতি প্রণয়ন ও জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির এই প্রতিবাদ থেকে স্পষ্ট, দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক প্রভাবই ফেলছে না, এটি সামাজিক প্রতিরোধ ও আন্দোলনের নতুন গতি প্রদান করছে।