প্রকাশ: ০৪ জুলাই ‘২০২৫ | নিজস্ব প্রতিবেদক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশে যাতে আর কোনো স্বৈরাচার জন্ম নিতে না পারে এবং কেউ আবারও ফ্যাসিবাদের ছায়ায় জনগণের ওপর চাঁদাবাজি, দমন-পীড়ন বা লুটপাট চালাতে না পারে, সেই লক্ষ্যে নতুন করে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার আটোয়ারী বাজারে এনসিপির নতুন অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্দোলন-সংগ্রামের বাস্তবতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “যারা এক সময় রাজনীতির নামে দেশে স্বৈরাচার কায়েম করেছিল, যারা গণতন্ত্রের মুখোশ পরে দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ঘাড়ে বসে সম্পদ লুট করেছে, তারাই আজ গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ধরনের একজন শাসক যিনি নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এটা কখনো কোনো দলের নেতার বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “এই জমিদারি ও পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আমাদের সমাজকে পঙ্গু করে দিয়েছে। লুটপাট ও দুর্নীতিকে তারা রাষ্ট্রের নিয়মে পরিণত করেছিল। আমরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছি। এখন আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ—আর কোনো স্বৈরাচার যেন এই শূন্যস্থানে জন্ম নিতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করা। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সেই স্বৈরতন্ত্রবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।”
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা কখনোই স্থায়ীভাবে দমন নীতিকে মেনে নেয় না। বারবার ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষ যখন এক হয়, তখন যেকোনো ফ্যাসিবাদ ভেঙে পড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে শুধু জয় পেলেই হবে না, সেই জয়কে টিকিয়ে রাখার জন্য জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ দরকার।”
অনুষ্ঠানে এনসিপি-র উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্থানীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “এই মুহূর্তে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। কারণ, স্বৈরাচার পতনের পরপরই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়—দেশকে আবারও পেছনে টানার চেষ্টা করে সুবিধাভোগী গোষ্ঠী। জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা না বাড়ালে সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে পারে।”
নেতারা মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আর কোনো দিন ফ্যাসিবাদের ছায়ায় বড় না হয়, সেজন্য রাজনৈতিকভাবে দলগত বা মতগত সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়।
অনুষ্ঠান শেষে এনসিপির নবনির্মিত অফিস উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মী, এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে নতুন কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেন নেতারা। সেই ঘোষণায় রাজনৈতিক শুদ্ধতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এনসিপির ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং তা ছিল গণমানুষের অধিকারের জন্য একটি ঐতিহাসিক দাবির প্রতিফলন। আর সেই চেতনাকে সামনে রেখে, আগামীর বাংলাদেশ যেন আর কোনো স্বৈরতন্ত্রের কবলে না পড়ে—সে লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।