নির্বাচন উপলক্ষে ড্রোন ব্যবহারে চারটি কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৬ বার
নির্বাচনের সময় চারটি কারণে ড্রোন উড়ানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ নির্বাচন পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার, র‌্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই, এনটিএমসি, সিআইডি এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ড্রোন একটি আধুনিক প্রযুক্তি হলেও নির্বাচনের সময় এর ব্যবহার বিভিন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধের চারটি প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—গোপনীয়তা লঙ্ঘন, নিরাপত্তার ঝুঁকি, আইন ও বিধি লঙ্ঘন এবং ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। ড্রোন ব্যবহার করে ভোটারদের ব্যক্তিগত স্থান, অফিস, কিংবা ভোটকক্ষ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব, যা ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া অননুমোদিত ড্রোন ব্যবহার করে বিপজ্জনক বস্তু বা বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব, যা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও জনসমাগমের ওপর ঝুঁকি তৈরি করে।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, ড্রোন পরিচালনায় আইনি নিয়মাবলী থাকা সত্ত্বেও অনেকেই তা মেনে চলে না। ফলে নির্বাচনী এলাকায় ড্রোনের অনিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। এছাড়া ভোটের ছবি বা ভিডিও ধারণ করে তা অপব্যবহার করা হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিনটি পর্যায়ে কাজ করবে। তফসিল ঘোষণার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধী ও দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করাও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে, যাতে প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারে এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারে।

ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, আনসার, গ্রাম পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আমর্ড পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটগ্রহণ শেষে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা রোধে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত এবং ভোটকেন্দ্র নির্ধারণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নির্বাচনী সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

নির্বাচনে ড্রোন উড্ডয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইসি ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। এ উদ্যোগে প্রার্থীর প্রচারণা ও ভোটারদের নিরাপত্তা দুটোই নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত