শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে বুধবার দিনটি এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিন পর শ্রমিক সুরক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও হয়রানি-সহিংসতা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনে স্বাক্ষর করল দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর এই তিনটি কনভেনশন অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার শ্রমিকদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায়সংগত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি নতুনভাবে দৃঢ় করল।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আইএলওর তিনটি কনভেনশন অনুসমর্থনপত্রে সই করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আজকের দিনটি বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সই নয়, বরং আমাদের দেশের শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতির প্রতীক।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, এই কনভেনশনগুলোর অনুসমর্থন বাংলাদেশের শ্রমনীতি ও আন্তর্জাতিক মানের মধ্যে নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (সংযুক্ত) মাহমুদুল হোসাইন খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া, বাংলাদেশে আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ যে তিনটি কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে, সেগুলো হলো—পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনভেনশন, ১৯৮১ (১৫৫ নম্বর); কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়নে প্রচারণামূলক কাঠামো কনভেনশন, ২০০৬ (১৮৭ নম্বর); এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধবিষয়ক কনভেনশন, ২০১৯ (১৯০ নম্বর)। এর মধ্যে ১৫৫ ও ১৮৭ নম্বর কনভেনশন আইএলওর মৌলিক কনভেনশন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এই কনভেনশনগুলো স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কার্যত শ্রমিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রে মানবিক পরিবেশ গঠনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বাংলাদেশের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই নয়, বরং ভবিষ্যৎ শ্রমনীতির সংস্কার ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি বড় দিকনির্দেশনা।

আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন এ উপলক্ষে বলেন, “বাংলাদেশ সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা শ্রমিকদের সুরক্ষা ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা আশা করি, সরকার, শ্রমিক সংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে একত্রে এই কনভেনশনগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”

একই দিনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নবনিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে বাংলাদেশ ও জার্মানির সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কর্মজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকেই শ্রমিক অধিকার রক্ষায় নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, এই কনভেনশনগুলোর প্রতিশ্রুতি কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এবং কর্মজীবী মানুষের জীবনে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত