১৫৩ শিক্ষার্থীকে নিয়ে সংসদ ভবন ঘুরে দেখালেন হাসনাত আবদুল্লাহ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৩ বার
১৫৩ শিক্ষার্থীকে নিয়ে সংসদ ভবন ঘুরে দেখালেন হাসনাত আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়; বাস্তব অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা এবং ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয়ও একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই বিশ্বাস থেকেই কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বৃত্তিপ্রাপ্ত ১৫৩ জন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে নিয়ে আয়োজন করেছেন এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা সফর। দিনব্যাপী এই সফরে শিক্ষার্থীরা ঘুরে দেখেছে জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ পাঠাগার, সংসদ অধিবেশন কক্ষ, নভোথিয়েটার এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর।

সোমবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু আনন্দভ্রমণ ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছিল পাঠ্যবইয়ের বাইরে রাষ্ট্র, ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের বাস্তব পাঠ গ্রহণের এক অনন্য সুযোগ। পুরো সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজেই। তিনি বিভিন্ন স্থাপনার ইতিহাস, কার্যক্রম, গুরুত্ব এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের ভূমিকা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেন।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই ভবন বিশ্বের অন্যতম নন্দিত স্থাপত্য নিদর্শন। শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী কাছ থেকে উপভোগ করার পাশাপাশি জানতে পারে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যক্রম এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সম্পর্কে। তাদের অনেকের কাছেই এটি ছিল জীবনের প্রথম সংসদ ভবন পরিদর্শন।

সংসদ পাঠাগার ঘুরে দেখে শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করে জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনায় তথ্য ও গবেষণার গুরুত্ব কতটা। বই, দলিলপত্র এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী উপকরণের সমৃদ্ধ সংগ্রহ তাদের কৌতূহলকে আরও উসকে দেয়। এ ছাড়া সংসদ অধিবেশন কক্ষের গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ তাদের জন্য ছিল এক বিরল অভিজ্ঞতা। পাঠ্যবইয়ে পড়া সংসদীয় ব্যবস্থাকে বাস্তবে প্রত্যক্ষ করে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র পরিচালনার জটিলতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি অর্জন করে।

শিক্ষা সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য ছিল নভোথিয়েটার। সেখানে শিক্ষার্থীরা আধুনিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রদর্শনী উপভোগ করে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করতে এমন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো মহাকাশের রহস্য, গ্রহ-নক্ষত্রের গতি এবং প্রযুক্তির বিস্ময়কর সম্ভাবনা সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সফরে যুক্ত হয় দেশপ্রেম ও ইতিহাসচেতনার এক নতুন মাত্রা। সেখানে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান, বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম, বীরত্বগাথা এবং দেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মারক ও সংগ্রহ তাদের মনে দেশের জন্য আত্মত্যাগের চেতনা জাগিয়ে তোলে। অনেকে জানান, বইয়ে পড়া ইতিহাসকে বাস্তবে অনুভব করার অভিজ্ঞতা তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

শিক্ষা সফর প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্য থেকেই এই শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানুক এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলুক।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম, নেতৃত্বের গুণাবলি ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এমন কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন।”

সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস আর কৃতজ্ঞতার ছাপ। তাদের ভাষায়, টেলিভিশন কিংবা বইয়ের পাতায় যেসব স্থান এতদিন দেখেছে, সেগুলো নিজের চোখে দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। জাতীয় সংসদ ভবনের গাম্ভীর্য, সামরিক জাদুঘরের ইতিহাস এবং নভোথিয়েটারের বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা তাদের মনে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য পুরো সময় তাদের সঙ্গে থেকে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গাইড করেছেন, যা সফরটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।

দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন এবং দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এমন শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের কাছে যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি অত্যন্ত শিক্ষণীয়। এর মাধ্যমে তারা শুধু বাস্তব জ্ঞানই অর্জন করে না; বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখে এবং দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হয়।

শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশেষ করে মেধাবী ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এমন অভিজ্ঞতা তাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেবিদ্বারের ১৫৩ শিক্ষার্থীর এই শিক্ষা সফর তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে শেখানোর একটি প্রচেষ্টা। রাষ্ট্রকে জানার, ইতিহাসকে অনুভব করার এবং নিজেকে দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করার এক অনন্য অধ্যায়। শিক্ষার্থীদের চোখে যে বিস্ময়, মুখে যে আনন্দ এবং মনে যে নতুন প্রত্যয়ের জন্ম হয়েছে, সেটিই হয়তো এ উদ্যোগের সবচেয়ে বড় অর্জন।

একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার নতুন প্রজন্মকে কেবল পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। দেবিদ্বারের এই ব্যতিক্রমী শিক্ষা সফর সেই বার্তাই নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল—শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য শুধু সনদ অর্জন নয়, বরং সচেতন, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত