প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় তারকা যশের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ মুক্তির প্রথম দিনেই ভারতীয় বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় যশের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, প্রথম দিনের আয় সেই প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটায়। তবে ছবিটির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পরবর্তী দিনগুলোর বক্স অফিসের গতি। প্রথম দিনের দুর্দান্ত সূচনার পর আয় ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে।
২৬ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া গীতু মোহনদাস পরিচালিত ছবিটি প্রথম দিনে ভারতীয় বক্স অফিসে প্রায় ১০১ কোটি ১০ লাখ রুপি নেট আয় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের আয়ও ছিল উল্লেখযোগ্য। যশের দীর্ঘদিন পর বড় পর্দায় ফেরা এবং ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর বিপুল সাফল্যের পর নতুন ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া আগ্রহ প্রথম দিনের দর্শক উপস্থিতিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে বক্স অফিসের ক্ষেত্রে একটি ছবির প্রকৃত শক্তি শুধু প্রথম দিনের আয় দিয়ে নির্ধারিত হয় না। মুক্তির পরবর্তী দিনগুলোতে দর্শক ধরে রাখতে পারাই একটি সিনেমার দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত। ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রশ্নটি সামনে এসেছে। দ্বিতীয় দিন থেকেই ছবিটির আয়ে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায় এবং পরবর্তী দিনগুলোতেও প্রথম দিনের সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
বক্স অফিসের বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রথম দিনের পর ছবিটির আয় দ্রুত কমে আসে। যদিও মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটি উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছে, তবুও উদ্বোধনী দিনের তুলনায় পরবর্তী দিনের পতন সিনেমাটির ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় বাজারে ছবিটির নেট আয় ২০০ কোটি রুপির সীমা অতিক্রম করেছে এবং গ্রস আয়ের অঙ্ক আরও বেশি।
তবে এই সংখ্যার পেছনের প্রবণতাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। প্রথম দিনে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করার পর ছবিটির দৈনিক সংগ্রহে যে বড় ধরনের পতন এসেছে, তা নির্মাতা ও পরিবেশকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণত কোনো বড় বাজেটের তারকাবহুল সিনেমা শক্তিশালী উদ্বোধনের পর সপ্তাহান্তে আয় ধরে রাখতে পারলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার জন্য ইতিবাচক সংকেত দেয়। কিন্তু ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রে দর্শক উপস্থিতি প্রথম দিনের তুলনায় কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
যশের জন্য ‘টক্সিক’ ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবি। ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’ মুক্তির পর দীর্ঘ সময় বড় পর্দা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সেই কারণে তাঁর নতুন সিনেমাকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। ‘কেজিএফ’ সিরিজ তাঁকে শুধু দক্ষিণী সিনেমার তারকা হিসেবে নয়, ভারতজুড়ে জনপ্রিয় একজন প্যান-ইন্ডিয়া অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ফলে নতুন ছবি মুক্তির আগেই ‘টক্সিক’ নিয়ে দর্শক ও চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।
ছবিটি মুক্তির আগে প্রচারণা, তারকাবহুল অভিনয়শিল্পী এবং বড় বাজেটের কারণে আলোচনায় ছিল। ‘টক্সিক’-এ যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, তারা সুতারিয়াসহ আরও কয়েকজন পরিচিত অভিনেত্রী। ভিন্ন ভাষার দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে ছবিটি প্যান-ইন্ডিয়া বাজারে মুক্তি দেওয়া হয়।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত ছবিটির গল্প ও নির্মাণশৈলী নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন প্রশংসা রয়েছে, তেমনি সমালোচনাও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গল্পের গতি, উপস্থাপনা এবং কিছু নির্মাণগত বিষয় নিয়ে দর্শকদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছবিটির বক্স অফিসের পরবর্তী দিনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
অনলাইন দর্শক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ছবিটি প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রাখতে পারেনি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আইএমডিবিতে ছবিটির রেটিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অনলাইন রেটিং দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে এবং দর্শকের ভোট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের স্কোর ওঠানামা করাও স্বাভাবিক। তাই একটি নির্দিষ্ট সময়ের রেটিং দিয়ে ছবিটির সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা চূড়ান্তভাবে বিচার করা কঠিন।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে ‘টক্সিক’-এর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এর প্রথম দিনের সূচনা। ১০১ কোটি রুপির বেশি নেট সংগ্রহ যশের তারকা শক্তি এবং ছবিটি নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের স্পষ্ট প্রমাণ। কিন্তু প্রথম দিনের বিপুল আগ্রহকে দীর্ঘমেয়াদি দর্শক উপস্থিতিতে রূপান্তর করা যায় কি না, সেটিই এখন ছবিটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
বর্তমানে ছবিটির সামনে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমার চাপ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে। বড় কোনো নতুন ছবি একই সময়ে মুক্তি না পেলে বিদ্যমান স্ক্রিনে ‘টক্সিক’ আরও কিছুদিন দর্শক টানতে পারে। তবে শুধু স্ক্রিনের সংখ্যা বেশি থাকলেই বক্স অফিসের আয় বাড়ে না। দর্শকদের আগ্রহ ও ইতিবাচক মুখে-মুখে প্রচার একটি ছবির ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে প্রথম সোমবারের আয়কে সাধারণত একটি সিনেমার দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। প্রথম সপ্তাহান্তের পর কর্মদিবসে দর্শক উপস্থিতি কতটা থাকে, তার ওপর নির্ভর করে ছবিটির বক্স অফিস যাত্রা কত দূর যেতে পারে। ‘টক্সিক’-এর ক্ষেত্রেও প্রথম কয়েক দিনের প্রবণতা এখন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের নজরে রয়েছে।
তবে প্রথম দিনের পর আয় কমলেও ছবিটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যর্থ বলা যাবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় বক্স অফিসে ২০০ কোটি রুপির বেশি নেট আয় করা যে কোনো ছবির জন্য বড় অর্জন। প্রশ্ন হলো, বিশাল উদ্বোধনের পর ছবিটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে কি না। কারণ ‘টক্সিক’-এর মতো বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে আয় শুধু মোট অঙ্ক দিয়ে নয়, নির্মাণ ব্যয়, প্রচারণা খরচ, পরিবেশনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার সম্ভাবনা বিবেচনায় মূল্যায়ন করা হয়।
যশের ভক্তদের একটি বড় অংশ এখনো ছবিটির পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, সপ্তাহের পরবর্তী দিনগুলোতে ছবিটি আবারও গতি ফিরে পাবে। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, প্রথম দিনের বিশাল কৌতূহলের পর দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ছবিটির ব্যবসার গতিপথ নির্ধারণ করবে।
‘টক্সিক’-এর যাত্রা তাই এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রথম দিনের রেকর্ড গড়া সূচনা ছবিটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহের প্রমাণ দিয়েছে, কিন্তু পরবর্তী দিনের পতন দেখিয়েছে যে শুধু তারকা শক্তি দিয়ে দীর্ঘ সময় বক্স অফিসে আধিপত্য ধরে রাখা সহজ নয়। একটি সিনেমার গল্প, নির্মাণ, দর্শকের প্রতিক্রিয়া এবং মুখে-মুখে প্রচার শেষ পর্যন্ত এর বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
আগামী কয়েক দিনের বক্স অফিসের ফলাফলই স্পষ্ট করবে, ‘টক্সিক’ প্রথম দিনের ধাক্কা কাটিয়ে আবারও দর্শক টানতে পারে কি না। যশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনের এই ছবিটি শেষ পর্যন্ত কত দূর এগোয়, সেটিই এখন ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।