বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শঙ্কা অপ্রয়োজনীয়, নিশ্চিত করেছেন তৌহিদ হোসেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শঙ্কা অপ্রয়োজনীয়, নিশ্চিত করেছেন তৌহিদ হোসেন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য কোনো দেশের উদ্বেগের প্রয়োজন নেই। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে সমুন্নত রাখছে, তবে এ সম্পর্ক কখনোই দেশের সার্বভৌমত্ব বা স্বাধীন নীতির সঙ্গে আপস করবে না।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সব সময়ই পরাশক্তিদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আমাদের নীতি হলো বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমন্বিত কূটনীতিক সম্পর্কের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা। আমরা চীনের সঙ্গে যেসব প্রকল্প এবং বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করছি, তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দেশের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখছে।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

তৌহিদ হোসেনের মতে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব আলোচনা কখনো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের যে উদ্বেগের খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক বা কূটনৈতিক প্রমাণ নেই।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ কেবল এক দেশ বা শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখে না। আমাদের নীতি হলো সকল পরাশক্তি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও সমন্বিত সম্পর্ক বজায় রাখা। আমরা চাই, সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক হোক।”

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ ও অবকাঠামো প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বন্দর, রেলপথ, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা দেশের অর্থনীতি ও জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক। এগুলো শুধু চীনের স্বার্থে নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য করা হচ্ছে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ কখনোই কোনো দেশের প্রভাব বা চাপে নিজস্ব নীতি পরিবর্তন করবে না। আমাদের কূটনীতি স্বতন্ত্র ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ। আমরা চাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বিতভাবে, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধির পথে এগোই।”

তিনি দেশের কূটনৈতিক নীতি আরও ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, “আমরা সবসময় চেষ্টা করি যে, আমাদের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী হোক। বাংলাদেশ যে কোনো পরাশক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে। এটি শুধু চীনের সঙ্গে নয়, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি।”

মো. তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। আমরা তাঁদের উদ্বেগ শুনি, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেই শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নীতির ভিত্তিতে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা আমাদের নীতি।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে যে দ্বিপাক্ষিক প্রকল্প শুরু করেছে, তা সব সময় স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক হচ্ছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও শিক্ষা ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা দেশের জনগণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা বয়ে আনবে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষতিকর প্রভাবের প্রশ্নই ওঠে না।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশ কোনো দেশের সঙ্গে একপক্ষীয়ভাবে যুক্ত না হয়ে সকল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে পারে। তাই আমাদের চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যেভাবে আছে, সেটি শুধু অর্থনৈতিক এবং উন্নয়নমূলক।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য। কোনো দেশকে এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। আমরা স্বতন্ত্র নীতি অনুসরণ করি এবং তা সকলের কাছে স্পষ্ট।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্য দেশের কূটনৈতিক নীতিতে স্থিতিশীলতা ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবসময় সমন্বিত, বন্ধুত্বপূর্ণ ও দেশের স্বার্থ রক্ষাকারী হবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে যদি কেউ চিন্তা করে, তাদের জানাই আমাদের নীতি সুনির্দিষ্ট। আমরা কেবল নিজেদের স্বার্থ, দেশের অর্থনীতি এবং জনগণের উন্নয়নের কথা ভাবি। আন্তর্জাতিক সমাজের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা সচেষ্ট।”

বাংলাদেশের কূটনীতিকরা মনে করছেন, এই অবস্থান দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় যে, ঢাকা একদিকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি দেশের বহুপাক্ষিক নীতি ও কূটনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে মূলত অবকাঠামো, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো রয়েছে। এসব প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এবং স্থানীয় জনগণের জীবনে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ কোনো একপক্ষের প্রভাবের অধীনে নয়, বরং দেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নীতির প্রতি অটল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি দেশের কূটনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন।

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

সংবাদে আরও বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের কূটনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী কোনোভাবে ব্যবহার করা হবে না। একই সঙ্গে অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে সম্পর্কও সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা হচ্ছে।

এভাবে বাংলাদেশের নীতি স্পষ্ট হচ্ছে যে, দেশকে কোনো একপক্ষের প্রভাবমুক্ত রাখা এবং সমস্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বাংলাদেশের স্বার্থ ও উন্নয়নের জন্য এবং আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কোনো ভিত্তি নেই

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত