লক্ষ্যাটা খুব বড় নয়—তবে লক্ষ্যপানে পৌঁছাতে দরকার ছিল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত ব্যাটিং। সেই দায়িত্বটিই নিতে চেয়েছিলেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। কিন্তু আশার আলো দেখিয়ে বেশিক্ষণ জ্বলে থাকতে পারেননি তারা। দু’জনের বিদায়ের পর এখন ভরসা তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে, যিনি ধীরে ধীরে দলের ইনিংস গড়ে তুলছেন দৃঢ়তায়।
রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ছিল কিছুটা অস্বস্তির। বল বুঝে খেলার চেষ্টা করছিলেন সাইফ হাসান, কিন্তু চতুর্থ ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে ১১ বলে মাত্র ৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এতে দল পড়ে কিছুটা চাপে। তবে সেই চাপ সামলাতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক লিটন দাস। শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক—দারুণ কয়েকটি শটে রানের চাকা সচল রাখছিলেন তিনি। কিন্তু তিনিও থিতু হয়ে বড় ইনিংস গড়ার পথে থেমে যান। আকিল হোসেনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ২৩ রান।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ইনিংসের হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন তিনি, ধৈর্য ধরে এক প্রান্ত আগলে রাখছেন। তার ব্যাটেই এখন বাংলাদেশের আশা। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৬৫ রান তুলে লড়াইয়ে টিকে আছে টাইগাররা।
এর আগে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে বল করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ছিল দারুণ—নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে চাপে ফেলে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। কিন্তু এরপরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায় শাই হোপ ও আলিক আথানেজের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে। তাদের দুজনের আগ্রাসী ইনিংসে এক পর্যায়ে স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান যোগ হতে থাকে, বাড়তে থাকে বাংলাদেশের চিন্তা।
তবে ১১তম ওভারে বল হাতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরে দল। শেষ দিকে বল হাতে শৃঙ্খলা ধরে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে থামিয়ে দেয় ১৪৯ রানে।
এখন বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ১৫০ রান—সিরিজ বাঁচাতে জয় ছাড়া উপায় নেই। হাতে আছে যথেষ্ট সময়, উইকেটও এখনও বাকি। দর্শকদের প্রত্যাশা একটাই—তানজিদ তামিম যেন ব্যাটে দৃঢ়তা দেখিয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারেন, আর আজকের ম্যাচেই ফিরে আসে বাংলাদেশের হাসি।