প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) বৃহস্পতিবার দাবি করেছে, জুলাই জাতীয় সনদকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; এটি হতে হবে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে গণভোট আয়োজনই জনগণের মতামত যাচাই করার একমাত্র গণতান্ত্রিক উপায়।
আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, প্রিতম-জামান টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আরেফিন মোহাম্মদ হিযবুল্লাহ বলেন, “জুলাই সনদ ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমানে তা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষি ও কৌশলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই আমরা দাবি করি, জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা সনদ বাস্তবায়নে প্রতিফলিত হোক।”
আপ বাংলাদেশের প্রস্তাব অনুযায়ী, গণভোটে দুটি ব্যালট রাখা হবে। প্রথম ব্যালটে থাকবে এমন সংস্কার প্রস্তাব যেগুলোতে চার বা তার কম রাজনৈতিক দলের নোট অফ ডিসেন্ট রয়েছে। দ্বিতীয় ব্যালটে থাকবে পাঁচ বা তার বেশি রাজনৈতিক দলের আপত্তি থাকা প্রস্তাবসমূহ। হিযবুল্লাহ জানান, এই ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিভাজন ও মতভেদ সত্ত্বেও জনগণের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের ২৭০ দিনের মেয়াদকে সমর্থন জানিয়ে আপ বাংলাদেশ আরও প্রস্তাব করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে গণভোট আয়োজন করা হোক। এতে সংবিধান সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া একসঙ্গে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে, হিযবুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, একদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে দুটি পৃথক দিনে আয়োজন করলে ততোধিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও লোকবল ডিপ্লয়মেন্ট নিশ্চিত করে, তবে একই দিন নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন করা সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ পদ্ধতি।”
আপ বাংলাদেশের এই দাবিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল ধাপ। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করবে। হিযবুল্লাহ বলেন, “জুলাই সনদে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা প্রতিফলিত না হলে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে। তাই আমাদের লক্ষ্য সনদকে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হিসেবে গড়ে তোলা।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য থাকলেও জনগণের মতামত সব সময় অগ্রাধিকার পাবে। তারা আরও উল্লেখ করেন, সনদ সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারগুলোকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
আপ বাংলাদেশ মনে করে, জুলাই সনদ দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। সনদ বাস্তবায়নে যদি জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রতিফলিত না হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। হিযবুল্লাহ বলেন, “সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে। আমরা চাই জনগণ নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে সনদ বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করবে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, আপ বাংলাদেশের এই দাবী রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য করার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা বলেন, সংবিধান সংশোধন ও গণভোটের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের সংযোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আপ বাংলাদেশ এই দাবীকে জনগণের মূল অধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের রক্ষাকবচ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দলের মতে, শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও মতভেদ নয়, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। হিযবুল্লাহ বলেন, “জুলাই সনদকে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার নয়, বরং জনগণের ইচ্ছার দলিল হিসেবে বাস্তবায়ন করা হোক—এটাই দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।”
এভাবে, আপ বাংলাদেশের দাবী এবং গণভোটের প্রস্তাব জাতীয় রাজনীতি ও সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এই দাবী দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।