প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ’ শীর্ষক আলোচনায় বলেছেন, দেশে বর্তমানে যার ওপরই ভরসা করা হয়, তার নাম নিয়েই আজেবাজে অপপ্রচারণা চালানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এসব তথ্য যাচাই করার কোনো সরাসরি উপায় নেই এবং নেতিবাচকতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সমাজে সারাক্ষণ নেগেটিভিটি ছড়ানোর পেছনে উদ্দেশ্য থাকে। বিতর্কিত মন্তব্য ছড়িয়ে মানুষের মনোযোগ বিভ্রান্ত করা হয়। কিছু লেখা বা বলা মাত্রই তা মানুষের মুখে ঘুরতে শুরু করে। তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষেত্রেও এ রকম নেতিবাচক প্রভাব প্রতিকূলভাবে কাজ করে। সমাজে সন্দেহ ও নেতিবাচকতার ওপর ভিত্তি করে কোনো স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে নারীর মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এখনও উপেক্ষিত। স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে নারীরা নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে নাগরিকদের প্রত্যাশার মধ্যে একটি বিশাল ফাঁক রয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবা সম্প্রসারণ অপরিহার্য।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, বায়ু দূষণ রোধ করা এক বছরের মধ্যে সম্ভব নয়। বিভিন্ন সংস্থা একত্রে কাজ করলে হয়তো কিছুটা ফল পাওয়া যেতে পারে। তবে দেশবাসীর জন্য অবিলম্বে মাস্ক ব্যবহার এবং আইনের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের নাগরিকদের আইন না মানার অভ্যাসও চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
উপদেষ্টা নারী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশে সেক্স এডুকেশন এখনও একটি নিষিদ্ধ বা সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়। শিশুরা ছোট থেকেই এই বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে আমরা এই শিক্ষাকে যথাযথভাবে প্রবর্তন করতে পারিনি। ফলে পরিবার ও সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা সীমিত রয়েছে।
রিজওয়ানা হাসান জোর দিয়ে বলেন, নারীর স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করে নারী ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। নারীর সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা নিশ্চিত না করে সমতার বাস্তবায়নও অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায্যতা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। দেশের সমৃদ্ধি ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর করতে নারীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এই আলোচনায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা রিজওয়ানার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, নারীর স্বাস্থ্য, মানসিক সচেতনতা এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা ছাড়া দেশ এগোতে পারবে না। সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সকল স্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
রিজওয়ানা হাসান শেষ করেন, নারীর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিলে সমাজে স্থায়ী শান্তি, সমতা এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এমন একটি উদ্যোগ দেশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নারীর সম্ভাবনা পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।