প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা। একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের ভোটব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা যায়। বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় কমিশন এই নির্দেশনা প্রদান করে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও চেয়ারম্যানরা। সভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
ইসি জানিয়েছে, গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ এবং ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজন হবে। সেক্ষেত্রে, ভোট যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসাথে অনুষ্ঠিত হয়, তখন বিদ্যমান ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থায় কিছু অতিরিক্ত কেন্দ্র সংযুক্ত করা প্রয়োজন হবে। আর যদি গণভোট পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আরও বেশি বাজেটের প্রয়োজন পড়বে। এজন্য ইসি অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থাৎ, ইসি শুধু ভোটের দিন নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে, তবে ভোটের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, যাতে ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না হয়। আর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “গণভোটের সফল আয়োজন নিশ্চিত করতে আমাদের সবার প্রস্তুতি থাকতে হবে। ভোট কেন্দ্র, মানবসম্পদ ও বাজেট—all—সবই সময়মতো প্রস্তুত করতে হবে। নির্বাচনের জন্য এই প্রাক-প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই ভোটপ্রক্রিয়া সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হোক।”
ইসি এই নির্দেশনার মাধ্যমে সরকারকে প্রেরিত বার্তা দিতে চেয়েছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু ভোটের দিন নির্ধারণ নয়, বরং ভোট প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপকে সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করাও। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়েও সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, ইসির এই নির্দেশনা প্রমাণ করছে যে, ভোটের প্রস্তুতি শুধুমাত্র নির্বাচনী দিন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে। বিশেষ করে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাজেট ও ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।
অর্থমন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, আগামী মাসের মধ্যে বাজেট বরাদ্দ এবং অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র তৈরির বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে নেওয়া হবে। এতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদদাতাদের বলেন, “গণভোটের দিন যত দ্রুত নির্ধারিত হবে, সঠিক প্রস্তুতিও তত দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং সকলের জন্য সুবিধাজনক করা।”
উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি বেশ সক্রিয়ভাবে চলছে। ভোটার তালিকা যাচাই, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং প্রাক-প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ধাপ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন গণভোটের প্রস্তুতির জন্য ইসির নির্দেশনা সরকারের জন্য নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
এই প্রাক-প্রস্তুতি এবং সরকারি নির্দেশনার ফলে আশা করা হচ্ছে, ভোট প্রক্রিয়া সময়মতো, স্বচ্ছ ও সর্বজনীনভাবে সম্পন্ন হবে, যাতে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করতে পারে।