মালয়েশিয়ায় ১০ দিন কাটিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন পরীমণি

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮৯ বার
পরীমনির ভিডিওর পর ফের সামাজিকমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢালিউডের আলোচিত নায়িকা পরীমণি বরাবরই নিজের জীবনকে রঙিন ও ব্যতিক্রমীভাবে সাজিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। আলো, ঝলমলে আয়োজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছুর মধ্যেই যেন তার জীবনের আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতি বছরই জন্মদিনে নানা আয়োজন করেন তিনি, কখনও ঢাকায় জমকালো পার্টি, কখনও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে নিরিবিলি সেলিব্রেশন। তবে এবারের আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালের জন্মদিনে তিনি বাংলাদেশে নয়, পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সেই সফরটি ছিল পুরো দশ দিনের, আর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখন ভাগ করে নিচ্ছেন অনুরাগীদের সঙ্গে।

শনিবার সকালে (১ নভেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্টে পরীমণি লিখেছেন, এটি ছিল তার জীবনের প্রথম এমন বিদেশ সফর, যেখানে জন্মদিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে দশ দিন দেশের বাইরে কাটিয়েছেন। তিনি লেখেন, “আজ আমাদের বাড়ি ফেরা হলো। দশ দিনের জন্য দেশের বাইরে এভাবে কোথাও সেলিব্রেশনের প্ল্যান এবারই প্রথম করলাম। আমরা মোট ৭ জন ছিলাম।”

এই সফরে তার সঙ্গে ছিলেন প্রিয়জনদের একটি ঘনিষ্ঠ দল—ছোট্ট ছেলে রাজ্য, রাজ্যের ন্যানি মোবারক, তার ম্যানেজার ভাই তুরান, ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাওন, প্রিয় মানুষ চঞ্চল, বরিশাল থেকে আসা মনুজান নাইম এবং পরীমণি নিজে। নায়িকা জানান, যাত্রার শুরু থেকেই ছিল উচ্ছ্বাস, হাসি আর বন্ধুত্বের উষ্ণতা।

তিনি বলেন, “যাওয়ার দিন হইহই করতে করতে গেলাম। সবাই কত ছবি-ভিডিও করলাম সারা পথ। দশ দিন একসাথে কাটিয়ে কত রকম নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হলো আমাদের। নিজেদেরকে নতুন করে চিনতে পারলাম। দুঃখ হলো, হাসি হলো, আনন্দ হলো, আর সারাজীবন মনে রাখার মতো কিছু সুন্দর সুন্দর স্মৃতিও হলো আমাদের সবার জীবনে।”

পরীমণি সবসময়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়, তবে এই সফরের সময় তিনি ছিলেন একদম ভিন্ন মেজাজে। পোস্টে লিখেছেন, “আমি তো সিম কার্ডও কিনিনি! আমরা সত্যি সত্যিই সময়টা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম, তাই কোনো পোস্ট দিইনি। এখন থেকে ধীরে ধীরে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করবো। এর মধ্যে যা ছবি বা ভিডিও ক‍্যাপচার করা হয়েছে, তার সব কৃতিত্ব শাওনের।”

নায়িকার ভক্তরা ইতোমধ্যে মন্তব্য বিভাগে শুভেচ্ছা ও প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে লিখছেন, পরীমণির এই পরিবর্তন ইতিবাচক—গ্ল্যামার ও বাস্তব জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কেউ কেউ বলছেন, মাতৃত্ব ও দায়িত্বের ভেতর থেকেও কীভাবে জীবনকে উপভোগ করা যায়, তা যেন তিনি নিজের জীবন দিয়ে উদাহরণ তৈরি করছেন।

মালয়েশিয়া সফরের সময় পরীমণির বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। দেখা গেছে, তিনি ও তার সঙ্গীরা কুয়ালালামপুরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র, সমুদ্রসৈকত, থিম পার্ক ও পাহাড়ি রিসোর্ট ঘুরে দেখেছেন। এক পর্যায়ে তাকে সাগরতীরে ছেলেকে নিয়ে খেলতেও দেখা গেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের মনে ছুঁয়ে গেছে।

এ ভ্রমণ যে তার কাছে কেবল বিলাসিতা নয়, বরং জীবনের একটি ‘রিফ্রেশিং ব্রেক’ ছিল, তা স্পষ্ট তার পোস্টের প্রতিটি শব্দে। তিনি লিখেছেন, “দশ দিন একসাথে থাকা আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে—জীবন কত সুন্দর, যদি ভালো মানুষদের সঙ্গে কাটানো যায়। এই সফরটা আমাকে ভেতর থেকে শান্ত করেছে।”

পরীমণি দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন শুটিং ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার চাপে। কয়েকটি বড় প্রজেক্ট ও ব্র্যান্ড ক্যাম্পেইনে যুক্ত থাকার কারণে তিনি সময় বের করতে পারছিলেন না। জন্মদিনের সুযোগেই তাই নিজের ও পরিবারের জন্য সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভ্রমণের সময় তিনি কোনো মিডিয়া সাক্ষাৎকার দেননি, পুরো সময়টিই ব্যক্তিগতভাবে উপভোগ করেছেন।

দেশে ফিরে পোস্টের মাধ্যমে তিনি আরও জানান, “জীবনে যতই কাজ করি না কেন, কিছু সময় নিজের জন্য রাখতে হবে। কারণ জীবন ছোট, আর সুখ খুব সহজ জিনিস—যদি আমরা তা খুঁজে নিতে জানি।”

অন্যদিকে, ঢালিউড অঙ্গনে পরীমণির এই ভ্রমণ নিয়েও চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, পরীমণি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থির ও পরিণত। তিনি নিজের জীবন, পেশা ও পরিবারকে একই সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণভাবে সামলাতে জানেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই সফর তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যেখানে তিনি শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নয়, একজন মানুষ হিসেবে নিজের অনুভূতিগুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

জন্মদিনে এবার কোনো জমকালো পার্টি বা মিডিয়া আলোড়ন ছিল না। বরং ছিল শান্ত একটি দেশ, প্রিয়জনদের হাসি, ছেলের সঙ্গে সাগরপাড়ে খেলা আর অজস্র নিরিবিলি মুহূর্ত। সেটিই হয়তো পরীমণির জীবনের সবচেয়ে অর্থবহ উদযাপন হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশের সিনেমা জগতে পরীমণি সবসময়ই আলোচিত একটি নাম। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সাহসী জীবনযাপন তাকে যেমন জনপ্রিয় করেছে, তেমনি বিতর্কেরও কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি ধীরে ধীরে জীবনের ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে করছেন অনুরাগীরা।

মালয়েশিয়ায় কাটানো এই দশ দিন সেই ভারসাম্যেরই প্রতিফলন—যেখানে আলোচনার কেন্দ্র নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিকতার আবেশই মুখ্য ছিল। নিজের জীবনের এই অধ্যায়টিকে তিনি যেভাবে তুলে ধরেছেন, তাতে বোঝা যায়, তিনি এখন এক নতুন, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী পরীমণি হয়ে উঠেছেন।

ভক্তদের জন্য এখন অপেক্ষা শুধু সেই প্রতিশ্রুত ভিডিও ও ছবিগুলোর, যা তিনি ধীরে ধীরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন বলে জানিয়েছেন। আর হয়তো তখনই সবাই আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন, কেমন ছিল “মালয়েশিয়ায় পরীমণির ১০ দিন”—যেখানে ছিল হাসি, ভালোবাসা আর নতুনভাবে বেঁচে ওঠার আনন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com