প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনের রাস্তা শীতল ও বিভ্রান্তিকর মুহূর্তে এক ভয়াবহ হত্যার দৃশ্যের সাক্ষী হয়। সোমবার বেলা ১১টার দিকে দুই অস্ত্রধারী খুব কাছ থেকে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করে, যার নাম শনাক্ত করা হয়েছে তারিক সাইফ মামুন (৫৫)। নিহত মামুন ছিলেন রাজধানীর অপরাধ জগতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ, যিনি এক সময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। তবে নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতা নিয়ে বিরোধের কারণে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই শত্রুতা চলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুজন হামলাকারী খুব দক্ষভাবে মামুনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলির ঘটনাটি মাত্র তিন থেকে চার সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মামুন পালানোর চেষ্টা করেন, তবে দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে এবং কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
মামুনের পরিবার জানিয়েছে, তিনি দুই দিন ধরে রাজধানীর বাড্ডার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন সকালেই আদালতে হাজিরার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা ধারণা করছেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোকজন এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এর আগেও ইমনের পক্ষ থেকে মামুনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমন ও মামুন এক সময় ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায়—হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও—অপরাধ ও আতঙ্কের নামে পরিচিত ছিল। তাদের গঠিত বাহিনী ‘ইমন-মামুন’ নামে পরিচিত ছিল। এছাড়া, মামুন এবং তার ইমন একাধিক গুণ্ডা ও হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
রাজধানীর কোতোয়ালি থানার পুলিশ উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিন বলেন, গুলির শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং দেখতে পান একজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং লাশ মর্গে রাখা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুজন হামলাকারী ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের প্রবেশমুখে এসে মামুনকে পেছন থেকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কয়েকটি গুলি হানার পর তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ হত্যাকাণ্ডের ফলে পুরান ঢাকা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন ধরনের প্রকাশ্য হত্যার কারণে আতঙ্কিত, এবং তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন।
নিহতের পরিবারের দাবী, শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুনের উপর চলমান রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ড ঢাকা শহরের অপরাধ দমন কাঠামোর অচলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের গভীর প্রভাবকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
পুরান ঢাকার এই প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই হত্যার ঘটনা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।