দিল্লিতে পরিবেশ দূষণ বিরোধী বিক্ষোভ, আটক ৮০ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬ বার
দিল্লিতে পরিবেশ দূষণ বিরোধী বিক্ষোভ, আটক ৮০ জন

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং আশেপাশের অঞ্চলে বায়ু দূষণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছেন শত শত মানুষ। রোববার এই বিক্ষোভে প্রায় ৮০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সংবাদ সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন এবং তারা ‘আমরা নিঃশ্বাস নিতে চাই’, ‘আমরা বাঁচতে চাই’সহ নানা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে ধরে সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হয়ে বায়ু দূষণের মারাত্মক প্রভাব এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ঝুঁকি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ জানায়, ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভ করার অনুমতি ছিল না। দিল্লি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেবেশ মাহলা বলেন, “ইন্ডিয়া গেট একটি উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকা। এটি কোনো প্রতিবাদের স্থান নয়। তাই আমরা বিক্ষোভকারীদের তৎক্ষণাৎ আটক করি।”

ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (CPCB) তথ্যমতে, সোমবার নয়াদিল্লির বায়ু মান সূচক (AQI) ছিল ৩৪৫, যা ‘খুবই খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত। সূচকের ০ থেকে ৫০ রেঞ্জে থাকলে বাতাস ‘নিরাপদ’, আর ৪০১ থেকে ৫০০ হলে ‘অত্যধিক বিপজ্জনক’ হিসেবে গণ্য করা হয়। শহরের বায়ু দূষণের মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প দূষণ এবং ধুলো কণার উপস্থিতি। শীতকাল আরও সমস্যা বাড়িয়ে দেয় কারণ আশেপাশের রাজ্যগুলোতে কৃষকরা ফসলের খড় পোড়ান এবং বাতাসের গতি কম থাকায় দূষণকারী পদার্থ মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে।

নিরাপত্তা সূত্র জানায়, বিক্ষোভের সময় অনেক মানুষ মুখে মাস্ক পরেননি। ফলে তারা দূষিত বাতাসের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদি দূষণ হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সমস্যা এবং অন্যান্য শারীরিক জটিলতা বাড়াতে পারে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন মিলিতভাবে এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিক। তারা বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন, যানবাহনের নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং শিল্পকেন্দ্রগুলোতে নির্ভরযোগ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এই বিক্ষোভের মাধ্যমে সমাজের সচেতন অংশ নির্দেশ দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র প্রতিবাদই নয়, নিয়মিত পরিবেশ সচেতন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা দূষিত বাতাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুলিশের তত্ত্বাবধানে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হলেও এ ধরনের পরিবেশ আন্দোলন ভারতের রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে শীতকালে নয়াদিল্লির বায়ুমণ্ডল আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

নিয়মিত বায়ু দূষণ সূচক এবং সচেতনতার মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক রাখা সরকারের দায়িত্ব হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে রাজধানীতে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।

এই বিক্ষোভ শুধু নয়াদিল্লির নয়, সমগ্র ভারতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। দেশের প্রধান শহরগুলোতে শিল্পায়ন ও যানবাহনের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ু দূষণের সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সচেতন নাগরিকরা দাবি করছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন এবং কার্যকর পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com